ডিসেম্বর ১৩, ২০২৫, ১১:৩০ পিএম
ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যাচেষ্টা এবং এর পরপরই লক্ষ্মীপুর জেলা নির্বাচন কার্যালয়ে আগুনের ঘটনা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কী ধরনের প্রভাব ফেলবে, তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
কমিশন জানিয়েছে, এই মুহূর্তে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য না করে ঘটনার তদন্ত শেষ হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।আজ শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) বিকেলে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ এবং নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ এ তথ্য জানান।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ সাংবাদিকদের বলেন, কমিশন এই মুহূর্তে সমস্ত সিচুয়েশন অবজার্ভ করছে।
তিনি স্বীকার করেন, তফসিলের পরপরই সম্ভাব্য প্রার্থীর ওপর হামলার ঘটনাটি অনেকের কাছে ‘নির্বাচনের পরিবেশকে বা নির্বাচনকে ভন্ডুল করার একটা প্রচেষ্টা’ মনে হতে পারে।তবে তিনি যোগ করেন,এটা আপনাদের মত। কিন্তু আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে এখন কোনো কিছু বলব না। আমরা বলব, তদন্ত করে দেখা হোক। কে বা কারা জড়িত এবং তাদের উদ্দেশ্য কী ছিল। এটা যদি বের হয়, তাহলেই আমরা আমাদের প্রতিক্রিয়া বলব।”সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রহমানেল মাছউদ লক্ষ্মীপুর জেলা নির্বাচন কার্যালয়ে আগুনের ঘটনাটি জেনেও আপাতত এটিকে ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “এই মুহূর্তে আমরা নির্বাচন করার জন্য একেবারে বদ্ধপরিকর।
শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলার প্রেক্ষাপটে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস আজ বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপি নেতাদের ডেকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে কমিশনার মাছউদ বলেন, উনারা নিশ্চয়ই (আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে) নির্দেশনা দেবেন।ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানান, হাদির ওপর গুলির ঘটনা নিয়ে গতকাল দুপুর থেকে পুলিশের সঙ্গে ইসির আলোচনা চলছে এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
কমিশনার রহমানেল মাছউদ বলেন, নির্বাচনের পরিবেশ ভণ্ডুল করতে পারে বা এই যাত্রাকে কেউ ভঙ্গ করতে পারে, এই ধরনের কোনো অশুভ বা অন্য কেউ যদি কোনো ঘটনা ঘটায়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সেখানে পদক্ষেপ নেবে—এই বার্তা সবসময় আপনাদের মাধ্যমে আমরা দিয়ে আসছি।ওসমান হাদির ওপর গুলি ও লক্ষ্মীপুরের ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়ানোর বিষয়ে ইসি চিন্তিত। নির্বাচন কমিশনার রহমানেল মাছউদ বলেন, সোশ্যাল মিডিয়া একটি বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ।
তিনি জানান, নতুন আরপিও (গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ) আইনে একটি সেকশন যুক্ত করা হয়েছে, যার মাধ্যমে:নির্বাচনকে ঘিরে যদি কেউ ডিজিনফরমেশন বা মিসইনফরমেশন বা এআই জেনারেটেড কিছু মিথ্যা তথ্য... প্রচার করে, তাহলে তাকে বা তাদের শাস্তি দেওয়া যাবে নতুন আইনে।”ইসি এখন থেকে দ্রুত আসল তথ্য দিয়ে মিথ্যাচার ঠেকানোর ব্যবস্থা করবে বলেও তিনি জানান।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন