সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

শহীদ হাদির শেষ বিদায়ে আজহারীর আবেগঘন পোস্ট

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ডিসেম্বর ২০, ২০২৫, ০৪:০৯ পিএম

শহীদ হাদির শেষ বিদায়ে আজহারীর আবেগঘন পোস্ট

জুলাই বিপ্লবের অগ্রসেনানী ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরীফ ওসমান হাদির শেষ বিদায় ও দাফন সম্পন্ন হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়ে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন জনপ্রিয় ইসলামী আলোচক মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী।

শনিবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ সংলগ্ন জাতীয় কবির কবরের পাশে হাদিকে সমাহিত করার পর আজহারী তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।

তিনি হাদিকে ‘দ্রোহের প্রতীক’ হিসেবে সম্বোধন করে তার এই প্রয়াণকে একটি রাজকীয় বিদায় বলে অভিহিত করেছেন।

মাওলানা আজহারী তার পোস্টে লিখেছেন যে শহীদ ওসমান হাদি ধূমকেতুর মতো এসেছিলেন এবং ন্যায় ও ইনসাফের বলিষ্ঠ কণ্ঠ হিসেবে পুরো জনপদে বিপ্লবের দাবানল ছড়িয়ে হঠাৎ রবের সান্নিধ্যে চলে গেলেন। তিনি বিশ্বাস প্রকাশ করেন যে দুনিয়ার এই রাজকীয় বিদায়ের চেয়েও আসমানে হাদির জন্য আরও বড় রাজকীয় অভ্যর্থনার আয়োজন চলছে। জুমার নামাজের পর গুলিবিদ্ধ হওয়া এবং এক সপ্তাহ পর জুমার রাতেই শাহাদাত বরণ করার এই কাকতালীয় ঘটনাকে আজহারী পরম সৌভাগ্যের নিদর্শন হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

জনপ্রিয় এই আলোচক আরও মন্তব্য করেন যে হাদির মতো দেশপ্রেমিক, আধিপত্যবাদবিরোধী ও ধর্মীয় মূল্যবোধ সম্পন্ন তরুণরাই আগামীর বাংলাদেশের প্রকৃত শক্তি। কোটি মানুষের চোখের জল ও দোয়ায় সিক্ত এই বিদায় প্রমাণ করে হাদি সাধারণ মানুষের হৃদয়ে কতটা গভীরে স্থান করে নিয়েছিলেন। আজহারী তার পোস্টে দৃঢ়ভাবে বলেন যে শহীদের রক্ত কখনো বৃথা যায় না। ওসমান হাদি সহস্র মুক্তিকামী মানুষের ভালোবাসায় বেঁচে থাকবেন এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে সাহসের বাতিঘর হয়ে অনুপ্রেরণা জোগাবেন।

শহীদ ওসমান হাদির দাফন উপলক্ষে আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় যে শোকাবহ পরিবেশ তৈরি হয়েছিল তার রেশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে। আজহারীর এই পোস্টটি মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায় এবং হাজার হাজার মানুষ হাদির বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে মন্তব্য করেন। উল্লেখ্য যে গত ১২ ডিসেম্বর দুর্বৃত্তের গুলিতে আহত হওয়ার পর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার রাতে হাদি শাহাদাতবরণ করেন। আজ রাষ্ট্রীয় শোকের দিনে তাকে কবির পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হলো।