ডিসেম্বর ২০, ২০২৫, ০৪:২৪ পিএম
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই বিপ্লবের লড়াকু সৈনিক শরিফ ওসমান হাদি। শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে তাকে সমাহিত করা হয়।
দাফনের এই অন্তিম মুহূর্তে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয় যখন এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ শহীদ হাদির কবরে মাটি দিতে যান। সহযোদ্ধাকে চিরতরে বিদায় জানানোর সময় তিনি নিজের আবেগ ধরে রাখতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান ওসমান হাদিকে কবরে শোয়ানোর পর হাসনাত আব্দুল্লাহ যখন মাটি দিচ্ছিলেন তখন তিনি বাষ্পরুদ্ধ হয়ে পড়েন।
প্রিয় সহযোদ্ধার বিয়োগব্যথা তাকে এতটাই বিচলিত করে তোলে যে তিনি কবরের পাশে একটি ইটের দেয়ালে বসে ফুঁপিয়ে কাঁদতে থাকেন। দীর্ঘক্ষণ তাকে কান্নারত অবস্থায় দেখা যায় এবং শোকের আধিক্যে তিনি কারো সাথে কথা বলার মতো অবস্থায় ছিলেন না। জুলাই বিপ্লবের উত্তাল দিনগুলোতে রাজপথের এই দুই সহযোদ্ধার এমন বিচ্ছেদ উপস্থিত শত শত মানুষের চোখে জল এনে দেয়।এর আগে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শহীদ হাদির জানাজা সম্পন্ন হয়। দুপুর ২টা ৩৩ মিনিটে শুরু হওয়া এই জানাজায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা লাখো মানুষ শরিক হন।
জানাজা শেষে বিকেল ৩টার দিকে কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনীতে হাদির মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্সটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ এলাকায় নিয়ে আসা হয়। জানাজায় ইমামতি করেছিলেন হাদির বড় ভাই আবু বকর সিদ্দিক। সংসদ ভবন থেকে ঢাবি ক্যাম্পাস পর্যন্ত পুরো এলাকা আজ কেবল শোক আর হাহাকারের জনপদে পরিণত হয়েছিল।
শহীদ ওসমান হাদির দাফন শেষে তার কবরের পাশে দীর্ঘক্ষণ অবস্থান করেন হাসনাত আব্দুল্লাহসহ আন্দোলনের অন্যান্য শীর্ষ নেতারা। উপস্থিত ছাত্র-জনতা হাদির স্মৃতি চারণ করে খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান। গত ১২ ডিসেম্বর বিজয়নগর এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে আহত হওয়ার পর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাদি মারা যান। আজ কবির পাশে তার শেষ শয্যা রচিত হওয়ার মাধ্যমে একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। তবে হাসনাতের সেই কান্নার দৃশ্য উপস্থিত সবার মনে হাদির ত্যাগের মহিমা আরও গভীরভাবে গেঁথে দিয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন