সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ছোট থেকেই প্রতিবাদী শহীদ ওসমান হাদি

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ডিসেম্বর ২০, ২০২৫, ১১:৩৯ পিএম

ছোট থেকেই প্রতিবাদী শহীদ ওসমান হাদি

ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার খাসমহল এলাকার এক জীর্ণ ঘর। ১৯৯৩ সালে এই ঘরেই জন্ম নিয়েছিলেন জুলাই বিপ্লবের অন্যতম স্বপ্নদ্রষ্টা শহীদ শরিফ ওসমান হাদি। আজ সেই ঘরটি ইতিহাসের এক নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, যেখান থেকে শুরু হয়েছিল এক অকুতোভয় বিপ্লবীর পথচলা।

হাদির বাবা শরীফ মাওলানা আব্দুল হাদি ছিলেন নলছিটি ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ। এলাকায় একজন নীতিবান ও প্রতিবাদী মানুষ হিসেবে তাঁর পরিচিতি ছিল।

ছয় ভাই-বোনের মধ্যে সবার ছোট হওয়ায় হাদি ছিলেন বাবার অতি আদরের। ছোটবেলা থেকেই বাবার সেই প্রতিবাদী চেতনার ছায়া পড়েছিল হাদির ওপর। তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় থেকেই তিনি বিভিন্ন ইসলামিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বন্ধুদের দিকনির্দেশনা দিতেন।

মাদ্রাসা শিক্ষায় হাদির প্রকৃত মেধার বিকাশ ঘটে। ঝালকাঠি এনএস কামিল মাদ্রাসা থেকে দাখিল ও আলিম সম্পন্ন করে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন। সেখান থেকে কৃতিত্বের সাথে অনার্স ও মাস্টার্স শেষ করে শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নেন। তবে শিক্ষকতার পাশাপাশি তাঁর ধ্যান-জ্ঞান ছিল গণমানুষের অধিকার ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা।সপ্তম-অষ্টম শ্রেণিতে পড়াকালীনই হাদি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ক্যাম্পেইনে নেতৃত্ব দিতেন। মানুষকে দেশপ্রেম এবং দায়িত্বশীল নাগরিক হওয়ার পরামর্শ দিতেন।

এলাকার শিশু থেকে যুবক—সবাইকে সাথে নিয়ে সামাজিক কাজে ঝাঁপিয়ে পড়তেন তিনি। তাঁর চরিত্রের মাধুর্য এমন ছিল যে, তিনি কখনোই কারও বিরাগভাজন হননি। এমনকি নলছিটি থানায় তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ তো দূরের কথা, একটি সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) নেই।হাদির পরিবারটি একটি শিক্ষিত ও আদর্শবান পরিবার। তাঁর বড় ভাই ডা. মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক বরিশালের একটি কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এবং ছোট বোন বাবার মাদ্রাসার বিজ্ঞানের শিক্ষক। ব্যক্তিগত জীবনে হাদি এক সন্তানের জনক এবং তাঁর স্ত্রীও উচ্চশিক্ষিত।

আজ হাদির শূন্যতা কেবল তাঁর পরিবার নয়, পুরো নলছিটিবাসীকে কাঁদিয়ে যাচ্ছে। এলাকাবাসী মনে করেন, হাদি কেবল একজন ব্যক্তি ছিলেন না, তিনি ছিলেন এক দৃপ্ত সংগ্রামের প্রতীক। তাঁর প্রতিটি রক্তবিন্দু একটি গণতান্ত্রিক ও সার্বভৌম বাংলাদেশ গঠনে প্রেরণা জোগাবে।