সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

দিল্লিতে বাংলাদেশি হাইকমিশনারের পরিবার ঝুঁকিতে: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ডিসেম্বর ২১, ২০২৫, ০৫:৫৭ পিএম

দিল্লিতে বাংলাদেশি হাইকমিশনারের পরিবার ঝুঁকিতে: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

ভারতের নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন ভবনের গেটে উগ্রপন্থীদের বিক্ষোভ ও হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহর পরিবারকে হুমকির বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া 'প্রেসনোট' বা ব্যাখ্যাকে পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে ঢাকা।

রোববার (২১ ডিসেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন এই কঠোর প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি অভিযোগ করেন, দিল্লিতে বাংলাদেশি হাইকমিশনারের পরিবার বর্তমানে গভীর নিরাপত্তা ঝুঁকি ও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, দিল্লিতে বাংলাদেশি হাইকমিশনারের পরিবার হুমকি ও ঝুঁকিবোধ করছে। তাদের হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে আমরা শুনেছি।

যদিও এর ভিডিও প্রমাণ আমাদের হাতে নেই, তবে ভুক্তভোগীরা বিষয়টি জানিয়েছেন।” তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, দিল্লির কূটনৈতিক জোনের অনেক গভীরে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনে উগ্রবাদীরা কীভাবে পৌঁছাল, তা একটি বড় প্রশ্ন। তৌহিদ হোসেনের ভাষায়, ২৫ জনের একটি চরমপন্থী সংগঠনের সদস্যরা এত দূর পর্যন্ত কেন আসতে পারবে? এর মানে হলো তাদের আসতে দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও যোগ করেন যে, প্রয়োজনে ভারতে বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশন ছোট করার চিন্তাভাবনাও করা হতে পারে।

এর আগে দিল্লির বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টার মো. ফয়সাল মাহমুদ জানিয়েছিলেন, শনিবার রাতে তিনটি গাড়িতে করে আসা একদল লোক মিশনের গেটে দাঁড়িয়ে 'হাইকমিশনারকে ধরো' এবং 'হিন্দুদের নিরাপত্তা দিতে হবে' বলে স্লোগান দেয়। তারা হিন্দিতে হুমকি দিয়ে বলে, বাংলাদেশে হিন্দু মারা হলে তারা কাউকেই ছাড়বে না। এই ঘটনার পর দিল্লিতে বাংলাদেশি কূটনীতিকদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

অন্যদিকে, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল রোববার এক বিবৃতিতে বাংলাদেশের গণমাধ্যমে প্রকাশিত এসব খবরকে 'বিভ্রান্তিকর প্রপাগান্ডা' বলে অভিহিত করেছেন। তার দাবি, ২০-২৫ জন তরুণ ময়মনসিংহে দিপু চন্দ্র দাস হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করেছে এবং কোনো নিরাপত্তা বেষ্টনী ভাঙার চেষ্টা হয়নি। তবে ঢাকা এই যুক্তি গ্রহণ করতে নারাজ। তৌহিদ হোসেন সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, বিদেশি মিশনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্পূর্ণভাবে ভারতের দায়িত্ব এবং ভিয়েনা কনভেনশনের লঙ্ঘন কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।