সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

হাদি হত্যা মামলায় অভিযুক্ত শুটার ফয়সালের নামে ১৭ সিম

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জানুয়ারি ১, ২০২৬, ১১:৩১ পিএম

হাদি হত্যা মামলায় অভিযুক্ত শুটার ফয়সালের নামে ১৭ সিম

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার তদন্তে বেরিয়ে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য যা দেশের টেলিযোগাযোগ খাতের নিরাপত্তাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। মামলার প্রধান অভিযুক্ত শুটার ফয়সাল করিম মাসুদের নামে মোট ১৭টি সক্রিয় সিম কার্ডের সন্ধান পাওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

অভিযুক্ত ফয়সাল এই বিপুল সংখ্যক সিম ব্যবহার করে নিজের অবস্থান গোপন রাখা এবং অপরাধী চক্রের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করার চেষ্টা করছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। একজন ব্যক্তির নামে এতগুলো সিম নিবন্ধিত থাকার বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ভাবিয়ে তুলেছে এবং এর ফলে অপরাধ দমনে প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জের বিষয়টি সামনে এসেছে।

এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার বা এনইআইআর ব্যবস্থা দ্রুত ও কঠোরভাবে বাস্তবায়নের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় যে সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মোবাইল ফোনের আমদানি শুল্ক যৌক্তিকভাবে কমানো এবং স্টক লট বৈধকরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উপদেষ্টা পরিষদের সর্বশেষ সভায় মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীদের সব দাবি মেনে নেওয়ার মাধ্যমে এনইআইআর কার্যকর করার পথ এখন সম্পূর্ণ সুগম হয়েছে।

এ ছাড়া নিরাপত্তার স্বার্থে একজন গ্রাহকের জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে সিম নিবন্ধনের সর্বোচ্চ সংখ্যাও কমিয়ে আনার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগে একজন গ্রাহক একটি এনআইডি দিয়ে সর্বোচ্চ ১৫টি সিম নিবন্ধন করতে পারতেন কিন্তু নতুন নির্দেশনায় এই সংখ্যা কমিয়ে ১০টি করা হয়েছে।উল্লেখ্য আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে প্রচারণার সময় গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগরে গুলিবিদ্ধ হন শরিফ ওসমান হাদি।

প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসার পর তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ পলাতক রয়েছেন এবং তাকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সরকার আশা করছে এনইআইআর প্রযুক্তি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে অপরাধীদের শনাক্ত করা এবং অবৈধ হ্যান্ডসেট ও সিমের ব্যবহার রোধ করা অনেক সহজ হবে।