সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

গাছে পেরেক ঠুকলেই জরিমানা অধ্যাদেশ জারি

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জানুয়ারি ৭, ২০২৬, ০৪:৩১ পিএম

গাছে পেরেক ঠুকলেই জরিমানা অধ্যাদেশ জারি

পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সরকার এবার অত্যন্ত কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। এখন থেকে গাছে পেরেক লাগানো বা অন্য কোনো ধাতব বস্তুর মাধ্যমে গাছের ক্ষতিসাধন করলে অপরাধীকে গুনতে হবে মোটা অঙ্কের জরিমানা। সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রেখে রাষ্ট্রপতি ‘বন ও বৃক্ষ সংরক্ষণ অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করেছেন।

মঙ্গলবার আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই গেজেটটি প্রকাশ করা হয়।

নতুন এই অধ্যাদেশে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে বাণিজ্যিক উৎপাদন ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্যে গাছে পেরেক বা ধাতব বস্তু গেঁথে গাছের ক্ষতি করা যাবে না। যদি কেউ এই বিধান লঙ্ঘন করেন, তবে আদালত তাকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা করতে পারবে।

শুধু পেরেক লাগানোই নয়, গাছ কাটার ক্ষেত্রেও আনা হয়েছে বড় ধরনের আইনি পরিবর্তন ও নিয়ন্ত্রণ। এখন থেকে বন আইন ১৯২৭-এর আওতাভুক্ত বন, অশ্রেণিভুক্ত রাষ্ট্রীয় বন, সামাজিক বন, সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং গণপরিসরের যেকোনো গাছ কাটতে হলে বন সংরক্ষণ কর্মকর্তার পূর্বানুমতি নিতে হবে। এই অধ্যাদেশটি মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়নের জন্য প্রধান বন সংরক্ষক বিভাগীয় বন কর্মকর্তাদের ‘বৃক্ষ সংরক্ষণ কর্মকর্তা’ হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করবেন।

গেজেটে প্রকাশিত কর্তন নিষিদ্ধ গাছের তালিকা বা বন অধিদপ্তর কর্তৃক বিপদাপন্ন ঘোষিত কোনো গাছ কোনোভাবেই কাটা যাবে না।এমনকি ব্যক্তিগত মালিকানাধীন জমিতে থাকা গাছ কাটার ক্ষেত্রেও নতুন নিয়ম মানতে হবে। অনুমতি সাপেক্ষে কর্তনযোগ্য গাছের তালিকায় থাকা বৃক্ষ কাটতে হলে মালিককে নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করে বৃক্ষ সংরক্ষণ কর্মকর্তার অনুমোদন নিতে হবে।

এ ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে গাছের প্রজাতি, সংখ্যা, উচ্চতা ও কাটার কারণ উল্লেখ করে নির্দিষ্ট ফরমে আবেদন করতে হবে। আবেদন পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে কর্তৃপক্ষ সরেজমিন পরিদর্শন করে লিখিত সিদ্ধান্ত জানাবে। এই অধ্যাদেশ অনুযায়ী, অবৈধভাবে গাছ কাটার অপরাধে সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা পর্যন্ত শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে, যা পরিবেশ সংরক্ষণে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।