সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

কমিশনের বৈঠক শেষে পে স্কেল ইস্যুতে যেসব অগ্রগতি জানা গেল

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জানুয়ারি ৮, ২০২৬, ১০:২৪ পিএম

কমিশনের বৈঠক শেষে পে স্কেল ইস্যুতে যেসব অগ্রগতি জানা গেল

সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে স্কেল নিয়ে বড় ধরনের অগ্রগতির আভাস পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে পে কমিশনের সভাপতি জাকির আহমেদ খানের সভাপতিত্বে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সভায় নতুন বেতন কাঠামোর সর্বনিম্ন মূল বেতন এবং গ্রেড ভিত্তিক ব্যবধান কমিয়ে আনার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

কমিশন সূত্র জানিয়েছে যে সর্বনিম্ন বেতন নির্ধারণে তিনটি পৃথক বিকল্প প্রস্তাব সরকারের কাছে দেওয়ার জন্য পর্যালোচনা করা হচ্ছে যা দেশের লাখ লাখ সরকারি কর্মচারীর জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেলবে।

বৈঠকের তথ্য অনুযায়ী সর্বনিম্ন বা ২০তম গ্রেডের মূল বেতন কত হবে তা নিয়ে তিনটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে।

প্রথম প্রস্তাবে সর্বনিম্ন মূল বেতন ২১ হাজার টাকা, দ্বিতীয়টিতে ১৭ হাজার টাকা এবং তৃতীয় প্রস্তাবে ১৬ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। এদিন এই প্রস্তাবগুলো নিয়ে বিস্তারিত প্রেজেন্টেশন দেওয়া হলেও কোনোটিই এখনো চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে কমিশন সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন এই তিনটি অংকের মধ্য থেকেই যেকোনো একটি শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত হতে পারে। বাড়িভাড়া ও চিকিৎসা ভাতাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা সমন্বয়ের কাজ শেষ না হওয়ায় সর্বোচ্চ বেতন ঠিক কত দাঁড়াবে তা এখনই জানানো যাচ্ছে না।

এবারের পে স্কেলের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের ব্যবধান কমিয়ে আনা। কমিশন সূত্রে জানা গেছে যে নবম পে স্কেলে এই অনুপাত ১:৮ চূড়ান্ত করা হয়েছে। এর আগে বিভিন্ন পর্যায়ে ১:১০ বা ১:১২ অনুপাত নিয়ে গুঞ্জন থাকলেও বৈষম্য দূর করার লক্ষ্যে শেষ পর্যন্ত ১:৮ অনুপাতকেই বেছে নেওয়া হয়েছে। এর ফলে ২০তম গ্রেডের একজন কর্মচারীর মূল বেতন ১০০ টাকা হলে সর্বোচ্চ গ্রেডের কর্মকর্তার মূল বেতন হবে ৮০০ টাকা। এই পদক্ষেপের ফলে নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের আর্থিক সংকট কিছুটা হলেও লাঘব হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এই পূর্ণ কমিশনের সভায় সদস্য ড. মোহাম্মদ আলী খান, মো. ফজলুল করিম, মো. মোসলেম উদ্দীন এবং সদস্যসচিব মো. ফরহাদ সিদ্দিকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পে কমিশন খুব দ্রুতই তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন সরকারের কাছে জমা দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত বেতন কাঠামো কার্যকরের বিষয়টি নির্ভর করছে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা ও বাজেট বরাদ্দের ওপর। বর্তমান বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় কর্মচারীদের পক্ষ থেকে দ্রুত এই নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের দাবি জানানো হচ্ছে।