ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৬, ১০:৫২ এএম
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে ভোটগ্রহণের দিন প্রার্থী এবং নির্বাচনী এজেন্টদের যানবাহন ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিশেষ কিছু বিধিনিষেধ ও নির্দেশনা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনের দিন আইনশৃঙ্খলার ভারসাম্য বজায় রাখা এবং যানজট নিরসনে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইসির নতুন নীতিমালা অনুযায়ী প্রার্থী ও তার নির্বাচনী এজেন্টরা সীমিত পরিসরে যানবাহন ব্যবহারের সুযোগ পাবেন তবে সেক্ষেত্রে কঠোরভাবে জনবল ও স্টিকার প্রদর্শনের নিয়ম মেনে চলতে হবে।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুসারে একজন প্রার্থী এবং তার নির্বাচনী এজেন্ট প্রত্যেকে একটি করে ছোট আকৃতির যানবাহন যেমন জিপ, কার, মাইক্রোবাস অথবা সিএনজি চালিত অটোরিকশা ব্যবহার করার অনুমতি পাবেন। প্রতিটি গাড়িতে চালকসহ সর্বোচ্চ পাঁচজন যাত্রী অবস্থান করতে পারবেন।
এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে প্রার্থীর নিরাপত্তার জন্য যদি কোনো সরকারি বা ব্যক্তিগত গানম্যান নিয়োজিত থাকে তবে তাকেও এই পাঁচজনের হিসাবের মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। অর্থাৎ গানম্যানসহ কোনোভাবেই পাঁচজনের বেশি ব্যক্তি একই গাড়িতে থাকতে পারবেন না।
ভৌগোলিক কারণে যেসব নির্বাচনী এলাকায় সাধারণ যানবাহন চলাচল সম্ভব নয় সেখানে বিকল্প হিসেবে মোটরসাইকেল ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এমন দুর্গম এলাকায় প্রার্থী ও তার নির্বাচনী এজেন্ট প্রত্যেকে সর্বোচ্চ দুটি করে মোটরসাইকেল ব্যবহার করতে পারবেন। তবে প্রতিটি মোটরসাইকেলে চালকসহ অনধিক দুজন আরোহী থাকতে পারবেন এবং চালকের অবশ্যই বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকতে হবে। নৌপথের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে যেখানে চালকসহ সর্বোচ্চ পাঁচজন যাত্রী নিয়ে একটি করে নৌযান ব্যবহার করা যাবে।
যানবাহন ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক প্রক্রিয়াটিও এবার বেশ কঠোর করা হয়েছে। প্রার্থী, নির্বাচনী এজেন্ট এবং গানম্যান বাদে গাড়িতে অবস্থানকারী অন্য যে কোনো ব্যক্তির জন্য সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের নিকট আবেদন করে আগেই পরিচয়পত্র সংগ্রহ করতে হবে। এছাড়া রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক সরবরাহ করা বিশেষ নির্বাচনি স্টিকারটি গাড়ির সামনের দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন করা বাধ্যতামূলক। পরিচয়পত্র বা স্টিকারবিহীন কোনো গাড়ি নির্বাচনের দিন সড়কে চলাচল করতে পারবে না।
ইসি আরও স্পষ্ট করে দিয়েছে যে প্রার্থী এবং তার নির্বাচনী এজেন্ট ব্যতীত গাড়িতে থাকা অন্য কোনো ব্যক্তি ভোটকেন্দ্রের নির্ধারিত সীমানার মধ্যে প্রবেশ করতে পারবেন না। কেন্দ্রের চৌহদ্দির ভেতরে প্রবেশের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র প্রার্থী ও এজেন্টেরই বৈধতা থাকবে। এই নির্দেশনাগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্য মাঠ পর্যায়ের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিয়ম অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং যানবাহন জব্দের হুঁশিয়ারিও দিয়েছে কমিশন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন