সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

জাতির স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬, ০৭:৪১ পিএম

জাতির স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে জাতির উদ্দেশে দেওয়া অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভাষণে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস সব রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর প্রতি এক বিশেষ আহ্বান জানিয়েছেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টায় বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেতারে প্রচারিত এই ভাষণে তিনি বলেন নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক না কেন ব্যক্তিগত বা দলীয় সংকীর্ণ স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে জাতির বৃহত্তর স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে হবে। 

তিনি মনে করিয়ে দেন যে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় হার-জিত থাকবেই কিন্তু দিনশেষে রাষ্ট্র ও জনগণের কল্যাণই সবার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।প্রধান উপদেষ্টা তার ভাষণের শুরুতে গভীর সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন এবারের নির্বাচনকে ঘিরে দেশব্যাপী যে প্রচার-প্রচারণা চলেছে তা পূর্ববর্তী যেকোনো নির্বাচনের তুলনায় ছিল উল্লেখযোগ্যভাবে শান্তিপূর্ণ। 

দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতার পর মত ও আদর্শের পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক দলগুলো যে সংযম ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছে তা সত্যিই প্রশংসনীয় তিনি উল্লেখ করেন।

এই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ হঠাৎ করে আকাশ থেকে পড়েনি বরং এটি রাজনৈতিক দল প্রার্থী এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত দায়িত্ববোধ ও সচেতনতার ফসল। সংঘাতের পথ পরিহার করে সবাই যে নির্বাচনের মাঠে টিকে থাকার চেষ্টা করেছেন তা গণতন্ত্রের জন্য শুভলক্ষণ বলে তিনি অভিহিত করেন।ভাষণের একটি বড় অংশজুড়ে ছিল দেশের তরুণ ও নারী ভোটারদের প্রতি প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ বার্তা। তিনি আবেগঘন কণ্ঠে বলেন গত ১৭ বছর ধরে ভোটাধিকার থাকা সত্ত্বেও যারা ভোট দিতে পারেননি আজকের দিনটি তাদের জন্যই। 

তিনি আক্ষেপ করে বলেন তরুণরা এমন এক বাস্তবতায় বড় হয়েছে যেখানে ভোটের মুখোশ ছিল কিন্তু ভোট ছিল না এবং ব্যালট ছিল কিন্তু প্রকৃত ভোটার ছিল না। দীর্ঘ বঞ্চনা ও অবদমনের এই ইতিহাস মুছে ফেলে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ইতিহাসের গতিপথ বদলানোর সুযোগ এসেছে। তিনি তরুণদের এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান।

নারীদের অবদানের কথা স্মরণ করে ড. ইউনূস বলেন মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত প্রতিটি আন্দোলনে নারীরা ছিলেন সম্মুখসারির যোদ্ধা। দেশের অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখতেও নারীদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। ক্ষুদ্র ঋণ থেকে শুরু করে কুটির শিল্প এবং বড় বড় ব্যবসায়িক উদ্যোগে নারী উদ্যোক্তারা আজ পরিবর্তনের গল্প লিখছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে এই নারী ও তরুণ ভোটাররাই হবে মূল চালিকাশক্তি এবং তাদের রায়েই নির্ধারিত হবে আগামীর বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ।