রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধায় সিক্ত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার

জাতীয় ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬, ০৫:২৬ এএম

ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধায় সিক্ত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার

শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন

অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে তারা এই শ্রদ্ধা জানান। ঘড়ির কাঁটা ১২টা বাজার সঙ্গে সঙ্গেই রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন শহীদ মিনারের মূল বেদীর দিকে এগিয়ে যান এবং ভাষাশহীদদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।

রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা নিবেদনের পর রাত ১২টা ৪ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সপরিবারে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে উপস্থিত হন। রাত ১২টা ৭ মিনিটে তিনি পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষাশহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান। 

এ সময় শহীদ মিনার এলাকায় অমর একুশের কালজয়ী গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ বাজানো হয়। প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় তার পাশে স্ত্রী জোবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমান উপস্থিত ছিলেন। এর আগে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী শহীদ মিনারে পৌঁছালে তাদের অভ্যর্থনা জানান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান।

পরবর্তীতে রাত ১২টা ১৬ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে জাতীয় সংসদের মন্ত্রিসভার সদস্যরা শহীদ মিনারের বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এর পরপরই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর পক্ষ থেকে এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকেও শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। রাষ্ট্রীয় এই আনুষ্ঠানিকতায় বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিদেশি কূটনীতিক এবং সরকারের উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তিন বাহিনীর প্রধানগণও পৃথকভাবে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষাশহীদদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন।

রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্য থেকে জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানান। একই সময়ে ন্যাশনাল সিটিজেনস পার্টি (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্য সচিব আখতার হোসেনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের আন্দোলনে শহীদ ও গাজীদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। প্রথম প্রহরে এই শ্রদ্ধা নিবেদনকে কেন্দ্র করে শহীদ মিনার ও এর আশপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।