ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬, ০৯:৩৩ এএম
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ১৮ মাস পার হলেও চট্টগ্রামে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর তদন্তে কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। সরকার পরিবর্তনের পর এসব মামলার কার্যক্রম আরও স্থবির হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ তুলছেন ভুক্তভোগী ও শহীদদের পরিবারের সদস্যরা। তাদের দাবি, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিভিন্ন সরকারি দপ্তর থেকে নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়া হলেও বর্তমান নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সেই যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
বিচারের দীর্ঘসূত্রতা এবং প্রশাসনের উদাসীনতায় শহীদদের স্বজনদের মধ্যে গভীর ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।চট্টগ্রামের বিভিন্ন থানায় এবং আদালতে এ পর্যন্ত মোট ১৫১টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, এসব মামলায় নাম উল্লেখ করা আসামির সংখ্যা ১৩ হাজার ৪৫০ জন এবং অজ্ঞাতনামা আসামি রয়েছেন আরও প্রায় ৩০ হাজার। তবে এত বিপুল সংখ্যক আসামির বিপরীতে তদন্তের কোনো দৃশ্যমান ফল নেই। ১৫টি হত্যা মামলার মধ্যে মাত্র একটির তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।
বাকি সবগুলোই এখনো তদন্তাধীন পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।শহীদ ওয়াসিম আকরামের পরিবারের আহাজারি আজ এক বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই চট্টগ্রামের মুরাদপুরে পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়া এই ছাত্রদল নেতার মা জোৎস্না বেগম জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ছাত্ররা তাদের বাড়িতে গেলেও নতুন সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কেউ কোনো খবর নেয়নি।
এমনকি নির্বাচনের আগে ও পরে স্থানীয় সংসদ সদস্য বা দলের শীর্ষ নেতাদের কাছ থেকে তারা কোনো কার্যকর সহযোগিতা পাননি। ওয়াসিমের মা আক্ষেপ করে বলেন, যারা তার সন্তানকে কেড়ে নিয়েছে, তাদের বিচার দেখার স্বপ্ন এখন জীবদ্দশায় পূরণ হবে কি না তা নিয়ে তিনি সন্দিহান।একই দিন শহীদ হওয়া ফয়সাল আহমেদ শান্তর মা কহিনুর আক্তারও সরকারের আচরণে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
তিনি জানান, সরকারি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাদের ডেকে নেওয়া হলেও সেখানে সাধারণ সম্মানটুকুও দেওয়া হয়নি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা রোদে দাঁড়িয়ে থাকার পর তারা ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছেন। বোয়ালখালীর সন্তান ওমর নুরুল আবছার এবং ফেনীর মাহবুবুল আলম মাসুমের পরিবারের অবস্থাও একই রকম। মাসুমের ভাই মাহমুদুল হাসান জানান, মাসুম কোনো রাজনীতির সাথে জড়িত না থাকলেও মিছিলে গিয়ে গুলিতে প্রাণ হারায়। ১৮ মাস পার হয়ে গেলেও এখনো কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়াকে তারা প্রশাসনের চরম ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন।
পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, চট্টগ্রামে থানায় দায়ের হওয়া ৬৯টি মামলায় মোট ২১ হাজার ৯০৬ জন আসামি রয়েছেন। এসব আসামিদের মধ্যে যেমন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা রয়েছেন, তেমনি অনেক সাধারণ ব্যবসায়ী ও নিরপরাধ মানুষের নামও জড়িয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মামলার এই বিশাল জট এবং সাক্ষীদের আদালতে হাজির করতে না পারার কারণে বিচার প্রক্রিয়া থমকে আছে। সিএমপির সহকারী কমিশনার আমিনুর রশিদ জানিয়েছেন, মামলাগুলোর তদন্ত চলছে, তবে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে আরও সময়ের প্রয়োজন। সব মিলিয়ে জুলাই বিপ্লবের বিচার নিয়ে চট্টগ্রামের সাধারণ মানুষের মাঝে এখন চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন