ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬, ০৭:০২ পিএম
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে দায়ের করা মামলাগুলোতে ব্যক্তিগত সুবিধা চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে অনেক সাধারণ ও নিরীহ মানুষকে আসামি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এই তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন যে কিছু সুবিধাবাদী গোষ্ঠী নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারের জন্য এসব মামলা করেছে যা বর্তমানে সরকারের নজরে এসেছে। এসব মামলার প্রতিটি তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত ঘটনা এবং সঠিক তথ্য খুঁজে বের করার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ বদ্ধপরিকর বলে উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন যে কেউ যেন অহেতুক হয়রানিমূলক মামলার শিকার না হন সেটি নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। অকারণে সাধারণ মানুষকে মামলায় জড়িয়ে হেনস্তা করার প্রচেষ্টা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।
সরকারের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে নিয়মিত তদারকি চালানো হচ্ছে এবং কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যাতে আইনি জটিলতায় না পড়েন সে জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। মামলার জট ও হয়রানি কমাতে মন্ত্রণালয় থেকে বিশেষ সেল গঠন করে তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে বলে তিনি জানান।সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন যা বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলের রাজনৈতিক হয়রানি সংক্রান্ত। তিনি জানান যে গত ১৭ বছর ধরে বিরোধী দলের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের বিরুদ্ধে দায়ের করা আরও ১২০২টি রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এর আগে প্রথম দফায় আরও ১০০৬টি মামলা প্রত্যাহারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। মূলত রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে করা মামলাগুলো থেকে নিরপরাধ মানুষকে মুক্তি দিতেই সরকারের এই ধারাবাহিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তবে কোনো গুরুতর ফৌজদারি অপরাধের মামলা এই প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত নয়।মন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন যে মামলা প্রত্যাহারের ক্ষেত্রে কেবল রাজনৈতিক হয়রানির বিষয়টিকেই বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
এক্ষেত্রে হত্যা মাদক অস্ত্র বিস্ফোরক এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো গুরুতর অপরাধের মামলাগুলো কোনোভাবেই তালিকায় রাখা হয়নি। ভবিষ্যতে যাতে রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহারের এই উদ্যোগের কোনো অপব্যবহার না হয় সে জন্য একটি বিশেষ যাচাই-বাছাই কমিটি গঠন করা হবে। মামলাগুলো সত্যিই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করা হয়েছে কি না তা এই কমিটি সতর্কতার সাথে পর্যবেক্ষণ করবে। আজ বা আগামীকালের মধ্যে এই কমিটির কার্যাবলি ও গঠন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার কথা রয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন