ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬, ০৯:৪০ এএম
আগামী ১২ মার্চ শুরু হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। রাষ্ট্রপতির এবারের ভাষণে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সাড়ে ১৫ বছরের দুর্নীতি, অনিয়ম এবং অপশাসনের বিস্তারিত চিত্র প্রাধান্য পাচ্ছে। বিশেষ করে ছাত্র-জনতার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট এবং শেখ হাসিনার শাসনামলে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধের বর্ণনা উঠে আসবে এই ভাষণে।
এছাড়া বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোও রাষ্ট্রপতির ভাষণের খসড়াতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।
সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি ভাষণ দিয়ে থাকেন। যদিও এই ভাষণটি রাষ্ট্রপতি বা তার দপ্তর নিজে প্রস্তুত করেন না। সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তর থেকে তথ্য সংগ্রহ করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এই ভাষণের খসড়া তৈরি করে এবং পরে তা মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদন দেওয়া হয়।
অর্থাৎ এক্ষেত্রে সরকারের নিজস্ব ভাষ্যই রাষ্ট্রপতি পাঠ করেন। জানা গেছে, এবারের ভাষণের খসড়া তৈরির কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং বর্তমানে তা যাচাই-বাছাইয়ের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ত্রয়োদশ সংসদের এই প্রথম অধিবেশনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক কৌতূহল বিরাজ করছে।মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির এই ভাষণ প্রায় দেড়শ পৃষ্ঠার হতে পারে। তবে সংসদীয় রীতি অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পুরো ভাষণটি পাঠ করবেন না, বরং এর গুরুত্বপূর্ণ চুম্বক অংশগুলো সংসদে পড়ে শোনাবেন।
ভাষণের একটি বড় অংশজুড়ে থাকবে বিগত দশম, একাদশ ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় টিকে থাকার প্রেক্ষাপট। এছাড়া বিরোধী দলের ওপর চালানো দীর্ঘদিনের নির্যাতন, গুম, খুন এবং ‘আয়নাঘর’ ব্যবহারের মাধ্যমে নিপীড়নের খতিয়ানও এই ভাষণে স্থান পাচ্ছে। জুলাই বিপ্লবে পতিত সরকারের মানবতাবিরোধী অপরাধের পরিসংখ্যানও এখানে গুরুত্বের সাথে যুক্ত করা হয়েছে।
এবারের রাষ্ট্রপতির ভাষণের প্রেক্ষাপট গত বছরের তুলনায় সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী। ২০২৪ সালের ৩০ জানুয়ারি দ্বাদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তৎকালীন শেখ হাসিনা সরকারের ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন। সেই সময় তিনি বিতর্কিত ওই নির্বাচনকে অবাধ ও সুষ্ঠু বলে অভিহিত করেছিলেন এবং বিগত দেড় দশকের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরেছিলেন। তবে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বর্তমান সরকারের নীতি অনুযায়ী শেখ হাসিনার শাসনের নেতিবাচক দিকগুলোই এখন রাষ্ট্রপতির কণ্ঠে ধ্বনিত হবে। প্রায় তিন মাস আগে অন্তর্বর্তী সরকারের আমল থেকেই এই ভাষণের প্রস্তুতির কাজ শুরু হয়েছিল যা এখন নতুন সরকারের অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে।
এই অধিবেশন ও রাষ্ট্রপতির ভাষণের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান যে ১২ মার্চ অধিবেশন বসবে এটুকু তিনি জানেন, তবে ভাষণের বিষয়বস্তু নিয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামানও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেননি। দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিন বর্তমানে যে ভাষণটি পাঠ করতে যাচ্ছেন, তা বর্তমান রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক ধারা পুনরুদ্ধারের প্রশ্নে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন