বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬,

শিক্ষা ও প্রযুক্তিতে দেশ এগিয়ে নিতে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬, ১২:৪৬ পিএম

শিক্ষা ও প্রযুক্তিতে দেশ এগিয়ে নিতে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রী

একুশে পদক দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন যে বর্তমান সরকার শিক্ষা ও বিজ্ঞান-প্রযুক্তির মাধ্যমে দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে কাজ করবে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা একুশে পদক ২০২৬ প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন। শিল্প ও সংস্কৃতির রাজনীতিকরণ কখনোই একটি সভ্য দেশের পরিচয় হতে পারে না বলে তিনি সাফ জানিয়ে দেন। 

এই সময় তিনি বলেন যে জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রতিটি শাখায় দেশের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে একটি নৈতিক মানসম্পন্ন এবং উদার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে তাঁর সরকার।

বক্তব্যের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন যে শহীদ জিয়াই স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম একুশে পদক প্রবর্তন করেছিলেন। এটি কেবল একটি পদক নয় বরং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে বাংলাদেশের ইতিহাসের গৌরবময় সব অর্জনকে সম্মানের সঙ্গে মনে রাখার একটি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি। 

যারা শিক্ষা, সাহিত্য, শিল্পকলা ও গবেষণার মাধ্যমে সমাজকে সমৃদ্ধ করেছেন, তাদের জনসাধারণের সামনে পরিচিত করিয়ে দেওয়ার একটি বড় মাধ্যম এই পদক। ১৯৭৬ সালে মাত্র তিনটি বিষয়ে এই সম্মাননা শুরু হলেও বর্তমানে ১২টি ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে, যা অত্যন্ত ইতিবাচক একটি অর্জন।তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে ফেব্রুয়ারি মাসের গুরুত্ব বিশদভাবে ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন যে ফেব্রুয়ারি মাস আমাদের আত্মপরিচয়ের স্মারক এবং আমাদের সাংস্কৃতিক চেতনার প্রাণপ্রবাহ। 

এটি যেমন মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার সংগ্রামের ইতিহাস, তেমনি জালেমের বিরুদ্ধে অধিকার আদায়ের লড়াইয়ের প্রেরণা। ভাষা আন্দোলনের ৭৪ বছর অতিক্রম করে জাতি এখন ৭৫ বছরে পদার্পণ করেছে। এই মাহেন্দ্রক্ষণে তিনি সকল ভাষা সংগ্রামীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং তাঁদের মৃত্যুকে শহীদি মৃত্যু হিসেবে কবুল করার প্রার্থনা করেন। গুণীজনদের কর্মময় জীবন যেন দীর্ঘ ও কল্যাণময় হয় সেই আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

শিক্ষা ও গবেষণাকে রাজনীতির ঊর্ধ্বে রাখার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন যে শিল্প-সাহিত্যের চর্চা যেন আরও বেশি শানিত হয়। রাষ্ট্র ও সরকার এই ক্ষেত্রে তাদের দায়িত্ব পালনে সবসময় সচেষ্ট থাকবে। তিনি বিশ্বাস করেন যে প্রকৃত উন্নয়ন তখনই সম্ভব যখন দেশের বিজ্ঞজনেরা সঠিক দিকনির্দেশনা প্রদান করবেন। জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চাকে বেগবান করতে এবং নৈতিক সমাজ গঠনে বর্তমান প্রশাসন নিরলসভাবে কাজ করে যাবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য একদিন বিশ্বজুড়ে আলো ছড়াবে বলেও তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এদিন প্রধানমন্ত্রী নিজ হাতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রাখা গুণীজনদের হাতে পদক তুলে দেন। চলচ্চিত্রে ফরিদা আক্তার ববিতা, সাংবাদিকতায় শফিক রেহমান, চারুকলায় অধ্যাপক মো. আবদুস সাত্তার এবং স্থাপত্যে মেরিনা তাবাশ্যুম এবার এই সম্মাননা লাভ করেন। মরণোত্তর সম্মাননা দেওয়া হয় প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী আইয়ুব বাচ্চুকে। এছাড়া নাট্যকলায় ইসলাম উদ্দিন পালাকার, শিক্ষায় অধ্যাপক মাহবুবুল আলম মজুমদার, ভাস্কর্যে তেজস হালদার যশ এবং নৃত্যকলায় অর্থী আহমেদ পদক গ্রহণ করেন। জনপ্রিয় ব্যান্ড দল ওয়ারফেজকে এবার সংগীত দল হিসেবে রাষ্ট্রীয় এই স্বীকৃতি প্রদান করা হয়েছে।