সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

সীমান্ত হত্যা বন্ধে ভারতকে কড়া বার্তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

জাতীয় ডেস্ক

মার্চ ১, ২০২৬, ০৭:২৪ পিএম

সীমান্ত হত্যা বন্ধে ভারতকে কড়া বার্তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও হাইকমিশনার

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সীমান্ত নিরাপত্তা, দ্বিপাক্ষিক ব্যবসা-বাণিজ্য এবং ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার সাথে বৈঠক করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। রোববার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান যে সীমান্তে আর যেন কোনো বাংলাদেশি নাগরিক হত্যাকাণ্ডের শিকার না হন সেই বিষয়টি তিনি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে হাইকমিশনারকে অবহিত করেছেন। 

তিনি বলেন আমি সীমান্ত হত্যার বিষয়টি সরাসরি তুলেছি এবং স্পষ্ট জানিয়েছি যে ভবিষ্যতে আমরা আর এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কথা শুনতে চাই না। সীমান্ত এলাকায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং প্রাণহানি এড়াতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বা বিজিবি এবং বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স বা বিএসএফের মধ্যে নিয়মিত পতাকা বৈঠক ও সমন্বিত টহল বৃদ্ধির ওপর তিনি জোর দিয়েছেন।

গত দেড় বছরে বাংলাদেশে ভারতীয় কনস্যুলেট ও ভিসা অফিসগুলোতে বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার প্রেক্ষিতে ভারতের ভিসা কার্যক্রম সীমিত রয়েছে। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান যে নিরাপত্তার কারণে ভারতীয় দূতাবাসগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় কাজ করতে পারেনি বলে হাইকমিশনার তাকে জানিয়েছেন। 

তবে বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় পর্যায়ক্রমে ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক করার আশ্বাস দিয়েছে ভারত। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারতের সাথে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও যাতায়াতের গভীর সম্পৃক্ততা রয়েছে। বাংলাদেশ সবসময় পারস্পরিক স্বার্থ মর্যাদা এবং শ্রদ্ধার ভিত্তিতে ভারতের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। কূটনৈতিক এবং বাণিজ্যিক সহ সকল ক্ষেত্রে সমতা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক অব্যাহত রাখাই সরকারের লক্ষ্য।

বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান অমীমাংসিত সমস্যাগুলো নিয়ে নিরবচ্ছিন্ন আলোচনার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মনে করেন ধারাবাহিক আলোচনার মাধ্যমেই অনেক জটিল সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যকার পেশাদার সম্পর্ক এবং উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগের মাধ্যমে সীমান্ত হত্যা শূন্যে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে। পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রেখে দুই দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও বৈঠকে ঐকমত্য পোষণ করা হয়।