সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের বৈঠক

জাতীয় ডেস্ক

মার্চ ৪, ২০২৬, ১১:১৫ এএম

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের বৈঠক

বৈঠকে দুই দেশের প্রতিনিধি

ঢাকা সফররত দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর বুধবার সকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। এর আগে তিনি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের সঙ্গেও বৈঠক করেন। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কৌশলগত সম্পর্ক জোরদারের লক্ষ্যে পল কাপুরের এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত মঙ্গলবার রাতে তিনি ঢাকায় পৌঁছান।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক বিষয়গুলোর পাশাপাশি বর্তমান ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে সম্প্রতি সই হওয়া বাণিজ্য চুক্তির বাস্তবায়ন এবং প্রস্তাবিত নিরাপত্তা চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। 

উল্লেখ্য যে, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ায় তারেক রহমানকে দেওয়া অভিনন্দন বার্তায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বাণিজ্য ও সামরিক চুক্তি সম্পাদনের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছিলেন। পল কাপুরের সফরসঙ্গী হিসেবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের জ্যেষ্ঠ অর্থনৈতিক উপদেষ্টা লরা অ্যান্ডারসন থাকায় অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক ইস্যুগুলো বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে জিসোমিয়া (GSOMIA) ও আকসা (ACSA) নামক দুটি বিশেষায়িত চুক্তি সই করতে আগ্রহী। এর মধ্যে জিসোমিয়া নিয়ে আলোচনা অনেকটা অগ্রসর হয়েছে বলে জানা গেছে। গত বছরের নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিনিধিদল বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য ঢাকা এসেছিল। এছাড়া এই সফরে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ হয়ে পড়া প্রায় পাঁচ হাজার বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া নিয়েও আলোচনা হতে পারে। ইতোমধ্যে প্রায় ৫০০ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর পল কাপুর সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে। সন্ধ্যায় তিনি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং একটি নৈশভোজে অংশ নেবেন। মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী হবে এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে নতুন গতির সঞ্চার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।