মার্চ ৪, ২০২৬, ০৮:৫৪ পিএম
ইরানে পরিচালিত সাম্প্রতিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ওআইসি ও ন্যাম সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সরাসরি নিন্দা প্রত্যাশা করছে তেহরান। বুধবার ঢাকার ইরান দূতাবাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ প্রত্যাশার কথা জানান দেশটিতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমী জাহানাবাদী। তিনি উল্লেখ করেন যে বাংলাদেশ একটি ভ্রাতৃপ্রতিম মুসলিম প্রধান দেশ এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জোটের সদস্য হিসেবে একটি আগ্রাসী শক্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো বাংলাদেশের নৈতিক দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।
রাষ্ট্রদূত সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট করেন যে ইরান দীর্ঘ মেয়াদে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সামরিক সক্ষমতা রাখে। দেশটির কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণে অত্যাধুনিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রসহ প্রয়োজনীয় সমর সরঞ্জাম রয়েছে।
তেহরান অন্য কোনো দেশের কাছ থেকে সামরিক বা লজিস্টিক সহায়তা চাচ্ছে না বরং মুসলিম উম্মাহর সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে আক্রান্ত ইরানের প্রতি সংহতি ও সহানুভূতি প্রকাশ করাকেই তারা বড় করে দেখছেন। একটি মুসলিম দেশ আক্রান্ত হলে অন্য মুসলিম দেশগুলোর উচিত সেই আগ্রাসী শক্তির বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেওয়া এবং নিজেদের ভূখণ্ড বা কোনো সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করে অন্য দেশে হামলার অনুমতি না দেওয়া।
সংবাদ সম্মেলনে ইরানে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়েও কথা বলেন রাষ্ট্রদূত। তিনি নিশ্চিত করেন যে সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ইতোমধ্যে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং তেহরানে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করছে। ইরানি বা বিদেশি হিসেবে কোনো ভেদাভেদ না করে বর্তমানে ইরানে অবস্থানরত সকলের সুরক্ষায় তাদের সরকার সমানভাবে কাজ করছে বলে তিনি জানান। কোনো ধরনের সমস্যা দেখা দিলে সরকার তা সমাধানে সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদান করবে।
ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সামরিক সক্ষমতা প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত বলেন যে তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত শক্তিশালী এবং আমেরিকা বা ইসরাইলের আধুনিক প্রযুক্তিগুলো তাদের ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির হত্যাকাণ্ডকে তিনি একটি কাপুরুষোচিত আক্রমণ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি জানান যে খামেনি কোনো গোপন আশ্রয়কেন্দ্রে লুকিয়ে ছিলেন না বরং তিনি তার দপ্তরে কাজ করা অবস্থায় আক্রান্ত হয়েছেন। একে গোয়েন্দা ব্যর্থতা না বলে আমেরিকা ও ইসরাইলের একটি নিকৃষ্ট পরিকল্পনা হিসেবে অভিহিত করেন তিনি।
বর্তমানে ইরানের নেতৃত্ব তিন সদস্যের একটি কমিটির মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে যার মধ্যে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট, বিচার বিভাগের প্রধান এবং গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন সদস্য। নতুন নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়াটি এক্সপার্ট কাউন্সিলের মাধ্যমে দ্রুতই সম্পন্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে। রাষ্ট্রদূত আরও দাবি করেন যে এই সংকটের সময়ে ইরানের জনগণের মধ্যে কোনো ফাটল ধরেনি বরং বাইরের আগ্রাসনের মুখে তারা জাতীয়তাবাদী চেতনায় আগের চেয়ে অনেক বেশি ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। ইরান কখনোই আগ বাড়িয়ে আগ্রাসী হবে না তবে যেকোনো আক্রমণের বিরুদ্ধে তারা শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে প্রতিরোধ করবে বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন