মার্চ ৫, ২০২৬, ০৮:০৬ পিএম
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত কর্মচারী ফজলুর রহমান নিজের দোষ স্বীকার করে লিখিত বিবৃতি দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. হোসেন ইমাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, বুধবার রাতে পুলিশের উপস্থিতিতে চিকিৎসাধীন ফজলুর রহমানের এই জবানবন্দি নেওয়া হয়। সেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, বিভাগীয় প্রধান তাকে এক কর্মস্থল থেকে অন্য জায়গায় বদলি করা এবং তার মাসিক বেতন বন্ধ করে দেওয়ায় তিনি চরম ক্ষুব্ধ ছিলেন। সেই দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ থেকেই তিনি এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।
চিকিৎসক আরও জানান, ফজলুর রহমান বর্তমানে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি রয়েছেন। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নিজেও আহত হওয়া এই অভিযুক্ত বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত।
তাকে ডাকলে তিনি সাড়া দিচ্ছেন এবং কোনো প্রশ্ন করা হলে কলম দিয়ে লিখে উত্তর দিতে পারছেন। পুলিশ কর্মকর্তারা ইতিমধ্যেই তার দেওয়া দুই পাতার লিখিত বক্তব্য সংগ্রহ করেছেন। এদিকে ফজলুর রহমানের পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে উপস্থিত হয়েছেন এবং তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।অন্যদিকে, নিহত শিক্ষিকা আসমা সাদিয়া রুনার ময়নাতদন্ত আজ সকালে সম্পন্ন হয়েছে।
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পরীক্ষা শেষে তাঁর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। দুপুর ২টার পর কুষ্টিয়া পৌর ঈদগাহ মাঠে মরহুমার জানাজা অনুষ্ঠিত হয় এবং পরে স্থানীয় পৌর কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়েছে। এই ঘটনায় নিহতের স্বজনরা গভীর শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। রুনার স্বামীর বড় ভাই আবদুর রশিদ এই হত্যাকাণ্ডকে অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক হিসেবে অভিহিত করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। ক্যাম্পাসের ভেতরে একজন শিক্ষকের ওপর এমন বর্বরোচিত হামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে শোক ও আতঙ্কের ছায়া নেমে এসেছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন