রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

শহীদ জিয়াকে স্বাধীনতার ঘোষক বললেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন

জাতীয় ডেস্ক

মার্চ ১২, ২০২৬, ০৭:৪১ পিএম

শহীদ জিয়াকে স্বাধীনতার ঘোষক বললেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন

সংসদে ভাষণরত রাষ্ট্রপতি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে সাংবিধানিক রেওয়াজ অনুযায়ী ভাষণ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে দেওয়া এই ভাষণে তিনি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ দেড় দশকের শাসনব্যবস্থাকে ফ্যাসিবাদী হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি তার বক্তব্যে তৎকালীন সরকারের বিভিন্ন স্বৈরাচারী কর্মকাণ্ড, রাষ্ট্রীয় অর্থ লুণ্ঠন এবং দুর্নীতিতে দেশকে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন বানানোর চিত্র অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন। 

স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ১৬ পৃষ্ঠার লিখিত ভাষণটি বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

রাষ্ট্রপতি তার ভাষণে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানকে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, এই অভ্যুত্থানের মাধ্যমেই দেশ তৎকালীন সরকারের দমন-পীড়ন থেকে মুক্ত হয়েছে। হাজারো শহীদের রক্তের বিনিময়ে নতুন এক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের সূচনা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি জুলাই গণহত্যার বিবরণ দেন। 

রাষ্ট্রপতি জানান, এই আন্দোলনে এক হাজারের বেশি মানুষ শহীদ হয়েছেন এবং প্রায় ৩০ হাজার মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন। তিনি শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং নির্যাতিত সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক কর্মীদের ত্যাগের কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন।ভাষণের একপর্যায়ে রাষ্ট্রপতি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে উল্লেখ করেন। একইসঙ্গে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় দীর্ঘ আপসহীন সংগ্রামের প্রশংসা করেন। 

রাষ্ট্রপতির মুখে জিয়াউর রহমানের নাম শোনার পর সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ সরকারি দলের সদস্যরা টেবিল চাপড়ে তাকে সাদর অভ্যর্থনা জানান। ভাষণ শেষ করার সময় রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশ জিন্দাবাদ স্লোগান ব্যবহার করেন, যা অধিবেশনে উপস্থিত সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।তবে রাষ্ট্রপতির এই ভাষণ প্রদানকে কেন্দ্র করে সংসদ কক্ষে এক নজিরবিহীন উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। 

রাষ্ট্রপতি যখন সংসদ কক্ষে প্রবেশ করেন, তখন বিরোধী দলীয় সদস্যরা তাকে ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর হিসেবে আখ্যায়িত করে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু করেন। তারা রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ দাবি করে বিভিন্ন স্লোগান সংবলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন এবং এক পর্যায়ে সংসদ কক্ষ থেকে ওয়াকআউট করেন। বিরোধী দলের সদস্যরা কক্ষ ত্যাগ করার পর রাষ্ট্রপতি তার পূর্ণাঙ্গ ভাষণ পাঠ সম্পন্ন করেন। রাষ্ট্রপতির বক্তব্য শেষ হওয়ার পর অবশ্য ওয়াকআউট করা সদস্যরা পুনরায় অধিবেশনে যোগদান করেন।

ভাষণে রাষ্ট্রপতি দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট কাটাতে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিগত সরকার দেশকে যে অর্থনৈতিক ধ্বংসস্তূপে রেখে গেছে, সেখান থেকে উত্তরণে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখা জরুরি। তিনি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব এবং দেশের কৃষি ও শিল্প খাতের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়েও কথা বলেন। রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন যে, জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে বর্তমান সরকার জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপ নেবে এবং বাংলাদেশকে একটি সমৃদ্ধ ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলবে।