রবিবার, ০৪ অক্টোবর, ২০২৬,

শিক্ষার্থীদের রাস্তায় দাঁড়িয়ে অতিথি বরণ নিষিদ্ধ করলেন শিক্ষামন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক

মার্চ ১৩, ২০২৬, ০৮:২৯ পিএম

শিক্ষার্থীদের রাস্তায় দাঁড়িয়ে অতিথি বরণ নিষিদ্ধ করলেন শিক্ষামন্ত্রী

কড়াকড়ি নির্দেশ মন্ত্রীর

চাঁদপুরের কচুয়ায় শিক্ষার্থীদের রাস্তায় দাঁড় করিয়ে মন্ত্রী বা কোনো অতিথিকে শুভেচ্ছা জানানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ বলে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে ভবিষ্যতে কোনো শিক্ষক বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের রোদে পুড়িয়ে বা সড়কের পাশে দাঁড় করিয়ে সংবর্ধনার আয়োজন করতে পারবে না। 

শুক্রবার জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত এক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কড়াকড়ি নির্দেশ প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে যোগদানের পথে শিক্ষার্থীদের রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে মন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং এ ধরনের রেওয়াজ বন্ধের নির্দেশ দেন।

বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী বলেন যে তাকে একজন সাধারণ মানুষের মতো চলাফেরা করতে দিতে হবে এবং তার জন্য কোনো শিক্ষার্থীকে কষ্ট দেওয়া যাবে না। তিনি কোনো বিশেষ আড়ম্বর বা সংবর্ধনা গ্রহণের চেয়ে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও স্বাস্থ্যের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান। 

মন্ত্রী আরও স্পষ্ট করেন যে তিনি যেখানেই যাবেন সেখানে যদি কোনো শিক্ষার্থীকে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন তবে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না। শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে তিনি নির্দেশনা দেন যেন অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর শিক্ষার্থীদের দ্রুত ছুটি দিয়ে বাড়িতে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন যে এখন থেকে তাদের আর রোদে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে না বরং তিনি নিজেই বিভিন্ন স্কুলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।

অনুষ্ঠানে কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান রাসেল, উপজেলা বিএনপির সভাপতি খায়রুল আবেদিন স্বপন এবং কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. বোরহান উদ্দিনসহ স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং রাজনৈতিক কর্মীবৃন্দও অনুষ্ঠানে অংশ নেন। মন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তকে স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। সাধারণ মানুষের চলাচলে বিঘ্ন ঘটিয়ে এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ক্ষতি করে এ ধরনের সংবর্ধনা প্রথা বন্ধ হওয়া জরুরি বলে মন্তব্য করেন উপস্থিত অনেকে।