মার্চ ২৩, ২০২৬, ০২:২০ পিএম
ঈদের দ্বিতীয় দিনেই রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। সকাল থেকে ঢাকার প্রায় কোনো পাম্পেই পেট্রোল ও অকটেন পাওয়া যাচ্ছে না, যদিও কিছু পাম্পে ডিজেল সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে।
সরকারিভাবে ঈদের আগেই জ্বালানি তেলের রেশনিং পদ্ধতি চালু করা হলেও পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক হয়নি। ছুটির কারণে সড়কে যানবাহনের চাপ কম থাকলেও তেলের এই আকস্মিক সংকট সাধারণ গ্রাহকদের চরম ভোগান্তিতে ফেলেছে। পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, যেকোনো সময় রিফুয়েলিং স্টেশনগুলো বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
মালিকপক্ষের দাবি, তারা জ্বালানি ঘাটতি ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছেন। ডিপোগুলো থেকে যে পরিমাণ তেল সরবরাহ করা হচ্ছে, তা দিয়ে গ্রাহকদের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছে না।
গণমাধ্যমে এমন সংবাদ প্রচারের পর গ্রাহকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সকাল থেকেই পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়। সরেজমিনে ঢাকার বিভিন্ন পাম্পে দেখা যায়, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও মোটরসাইকেল ও গাড়ির চালকরা কাঙ্ক্ষিত জ্বালানি পাচ্ছেন না।
অনেকেই অভিযোগ করেছেন, দেশে পর্যাপ্ত পেট্রোল ও অকটেনের মজুত থাকার পরও কেন পাম্পগুলো তেল শূন্য, তার কোনো সদুত্তর মিলছে না। দীর্ঘ অপেক্ষার কারণে অনেক স্থানে গ্রাহক ও পাম্প কর্মীদের মধ্যে বাগবিতণ্ডার ঘটনাও ঘটেছে। এদিকে খুলনার পরিস্থিতিও প্রায় একই রকম।
জ্বালানি না থাকায় সেখানকার বেশিরভাগ পাম্প বন্ধ রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ঈদের ছুটিতে ব্যাংক বন্ধ থাকায় পে-অর্ডার করা সম্ভব হয়নি, যার ফলে ডিপো থেকে তেল উত্তোলন ব্যাহত হয়েছে। তবে বর্তমানে পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা ডিপো থেকে তেলের সরবরাহ পুনরায় শুরু হয়েছে।
পাম্প মালিকরা আশা করছেন, ডিপো থেকে তেলের গাড়িগুলো পাম্পে পৌঁছালে খুব দ্রুতই এই সংকট কেটে যাবে এবং দেশজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ আবার স্বাভাবিক হবে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন