সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে, বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান

জাতীয় ডেস্ক

মার্চ ২৩, ২০২৬, ০৮:২২ পিএম

জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে, বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান

মজুত রয়েছে পর্যাপ্ত তেল

দেশে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই এবং বর্তমানে চাহিদা মেটানোর মতো পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে বলে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেছে সরকার। তেলের সরবরাহ নিয়ে জনমনে বিভিন্ন ধরনের উদ্বেগ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অপপ্রচারের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে কৃত্রিম সংকটের কোনো সম্ভাবনা নেই। 

তাই কোনো প্রকার ভিত্তিহীন তথ্যে কান না দিতে এবং আতঙ্কিত হয়ে হুজুগে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ না করতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে জ্বালানি পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক রয়েছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এক বিশেষ বিবৃতিতে জানিয়েছেন যে ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেনসহ সব ধরনের জ্বালানি তেলের যথেষ্ট মজুত বর্তমানে সরকারি ভাণ্ডারে রয়েছে। তিনি বলেন জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর এবং প্রয়োজনে স্পট মার্কেট থেকে উচ্চমূল্যে তেল কিনে হলেও সারা দেশে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখা হচ্ছে। 

ইতিমধ্যে নতুন তেলবাহী জাহাজ বন্দরে আসা শুরু করেছে এবং এই আমদানির প্রক্রিয়াটি নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ফলে সরবরাহ ব্যবস্থায় ঘাটতি হওয়ার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই।বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন বা বিপিসির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান মজুতের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরে জানান বর্তমানে দেশে ১ লাখ ৩৬ হাজার মেট্রিক টন পরিশোধিত জ্বালানি তেল মজুত আছে। এর বাইরে চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারিতে আরও প্রায় ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাতকরণের অপেক্ষায় রয়েছে। 

কর্তৃপক্ষের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী বর্তমান এই মজুত দিয়ে নতুন কোনো সরবরাহ ছাড়াই আগামী ২০ থেকে ২২ দিনের স্বাভাবিক চাহিদা অনায়াসেই মেটানো সম্ভব। যেহেতু বেশ কিছু আমদানিকৃত তেলবাহী জাহাজ বর্তমানে পাইপলাইনে রয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে বন্দরে ভিড়ছে তাই সরবরাহের ধারাবাহিকতায় কোনো ছেদ পড়ার আশঙ্কা নেই।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মনে করছে একটি অসাধু চক্র ব্যক্তিগত স্বার্থে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির অপচেষ্টা চালাতে পারে এবং গুজব ছড়িয়ে মানুষকে আতঙ্কিত করতে পারে। দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং সঠিক তথ্যের জন্য কেবল সরকারি ও আনুষ্ঠানিক ঘোষণার ওপর আস্থা রাখার জন্য সাধারণ মানুষের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানানো হয়েছে। গুজব ছড়িয়ে জনমনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে প্রশাসন। সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে স্বাভাবিকভাবে তেল সংগ্রহের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।