সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

তারেক রহমানকে অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্টে অভিনন্দন

জাতীয় ডেস্ক

মার্চ ২৩, ২০২৬, ০৮:২৭ পিএম

তারেক রহমানকে অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্টে অভিনন্দন

অস্ট্রেলিয়ার সংসদে অভিনন্দন

বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস পার্লামেন্টে একটি বিশেষ প্রস্তাব বা মোশন উত্থাপন করা হয়েছে। সোমবার দেশটির সংসদে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ১৩তম সাধারণ নির্বাচন এবং এর ঐতিহাসিক ফলাফল নিয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব উত্থাপন করেন সংসদ সদস্য অ্যাবিগেইল বয়েড। 

বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মো. রাশেদুল হক বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। উল্লেখ্য যে অ্যাবিগেইল বয়েড এর আগে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতেও অস্ট্রেলিয়ার সংসদে শোক প্রস্তাব উত্থাপন করেছিলেন।

অস্ট্রেলিয়ার এমপি অ্যাবিগেইল বয়েড তার উত্থাপিত প্রস্তাবে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনকে গত কয়েক দশকের মধ্যে অন্যতম শান্তিপূর্ণ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন হিসেবে অভিহিত করেছেন। প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয় যে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনের পতনের পর এটিই ছিল দেশের প্রথম অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন। 

এই নির্বাচনে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বা বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে এক ঐতিহাসিক বিজয় লাভ করেছে। এই বিজয়কে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় একটি মাইলফলক হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।অ্যাবিগেইল বয়েড তার বক্তব্যে নির্বাচন কমিশনের তথ্য উল্লেখ করে জানান এবারের নির্বাচনে রেকর্ড ৫৯ শতাংশ ভোটার উপস্থিত ছিলেন। তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন জনগণের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই প্রমাণ করে যে জাতি হিসেবে বাংলাদেশিরা বিজয়ী হয়েছে। 

নির্বাচনের পাশাপাশি ‘জুলাই ন্যাশনাল চার্টার’ বা জুলাই জাতীয় সনদের ওপর অনুষ্ঠিত সাংবিধানিক গণভোটের সাফল্যের কথাও প্রস্তাবে বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। প্রায় ৬০ শতাংশ ভোটার এই সনদের পক্ষে রায় দিয়েছেন যাতে দেশের শাসনব্যবস্থা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কারে ৮০টিরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবনা রয়েছে। এই প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমেই নতুন সরকার রাষ্ট্র পরিচালনা করবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রস্তাবটির শেষে বিএনপি এবং নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বিশেষ অভিনন্দন জানানো হয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশের সাধারণ জনগণকে তাদের অকুতোভয় সাহসিকতা ও দীর্ঘ আন্দোলনের জন্য সাধুবাদ জানানো হয় যা দেশে স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচারের পথ প্রশস্ত করেছে। অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্টে এই ধরনের প্রস্তাব গ্রহণ বাংলাদেশের নতুন সরকারের জন্য একটি বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই স্বীকৃতির ফলে আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল হবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।