সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

বাংলাদেশিদের অভিবাসী ভিসা স্থগিত করল যুক্তরাষ্ট্র

জাতীয় ডেস্ক

মার্চ ২৩, ২০২৬, ০৮:৩৭ পিএম

বাংলাদেশিদের অভিবাসী ভিসা স্থগিত করল যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা স্থগিত

বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা প্রদান সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার ২৩ মার্চ ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস এক বিশেষ বার্তায় এই সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যা করেছে। মূলত যুক্তরাষ্ট্রের করদাতাদের স্বার্থ রক্ষা এবং অভিবাসীদের মাধ্যমে দেশটির ওপর অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা কমানোর লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। 

দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে অভিবাসীরা যেন অবৈধভাবে কোনো সরকারি কল্যাণমূলক সুবিধা গ্রহণ করতে না পারেন সেটি নিশ্চিত করাই মার্কিন সরকারের বর্তমান অগ্রাধিকার। যেসব দেশের নাগরিকদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সুবিধা বা পাবলিক বেনিফিট ব্যবহারের হার তুলনামূলক বেশি সেই দেশগুলোর জন্যই এই স্থগিতাদেশ কার্যকর করা হয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এই নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী গত ২১ জানুয়ারি থেকেই বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৭৫টি দেশের জন্য অভিবাসী ভিসা প্রদান স্থগিত করা হয়েছে।

 দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে এই সাময়িক বিরতির ফলে বর্তমানে বিদ্যমান যাচাই-বাছাই নীতিমালা ও প্রক্রিয়াগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে পর্যালোচনার সুযোগ তৈরি হবে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে যেন কেবল যোগ্য এবং আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী ব্যক্তিরাই দেশটিতে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পান তা নিশ্চিত করা হবে। এই স্থগিতাদেশ সরাসরি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতির একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস বা গ্রিন কার্ড পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা অনেক বাংলাদেশি নাগরিকের প্রক্রিয়া এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়ল।

তবে এই স্থগিতাদেশের ফলে সব ধরনের ভিসা কার্যক্রম বন্ধ হয়নি। মার্কিন দূতাবাস স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে এই সিদ্ধান্ত কেবল অভিবাসী বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। সাধারণ পর্যটক শিক্ষার্থী ব্যবসায়ী বা চিকিৎসার প্রয়োজনে যারা যুক্তরাষ্ট্রে যেতে চান তাদের জন্য অনভিবাসী বা নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা প্রক্রিয়া আগের মতোই সচল থাকবে। অর্থাৎ পর্যটক ও শিক্ষার্থী ভিসার আবেদনকারীরা এই স্থগিতাদেশের আওতার বাইরে থাকবেন। এ ছাড়া বর্তমানে যারা অভিবাসী ভিসার জন্য আবেদন করেছেন তারা চাইলে তাদের আবেদন জমা দিতে পারবেন এবং নির্ধারিত সাক্ষাৎকারেও অংশ নিতে পারবেন। তবে যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত অভিবাসী ভিসা ইস্যু করা হবে না।

সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে এই সিদ্ধান্ত মূলত যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও আর্থিক কাঠামোর সুরক্ষার অংশ। বিশ্বের অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মতো বাংলাদেশও এখন এই নতুন অভিবাসন নীতির আওতায় এসেছে। দূতাবাস আরও উল্লেখ করেছে যে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী হতে ইচ্ছুক বিদেশি নাগরিকদের স্ক্রিনিং ও এলিজিবিলিটি ক্রাইটেরিয়া আরও শক্তিশালী করতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে এই স্থগিতাদেশ কত দিন স্থায়ী হবে সে বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করা হয়নি। এমতাবস্থায় অভিবাসন প্রত্যাশীদের নতুন কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণার জন্য অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে এবং কোনো ধরনের দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীদের মাধ্যমে বিভ্রান্ত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে দূতাবাস।