মার্চ ২৪, ২০২৬, ১১:০৬ এএম
জাতিগত বৈষম্য ও বর্ণবাদ নির্মূল করে সাম্য ও মানবিক মর্যাদা সমুন্নত রাখতে বিশ্ববাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। সোমবার নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে আন্তর্জাতিক বর্ণবাদ নির্মূল দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ স্মারক সভায় এই আহ্বান জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
সভায় তিনি বর্ণবাদ ও জাতিগত বৈষম্যবিরোধী সব আন্তর্জাতিক কনভেনশনে বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করে এই অভিশাপ নির্মূলে দেশের অটুট অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
বিশেষ করে রাখাইন ও গাজায় চলমান বর্ণবাদমূলক নিপীড়নের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন যে ডারবান ঘোষণা ও কর্মপরিকল্পনার লক্ষ্য অর্জনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখনও প্রত্যাশিত সাফল্য থেকে অনেক পিছিয়ে রয়েছে।বিশ্বব্যাপী অভিবাসী শ্রমিকদের বঞ্চনা ও শোষণ এবং ন্যায়বিচারে তাদের সীমিত প্রবেশাধিকার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি উল্লেখ করেন যে এ ধরনের বৈষম্যমূলক পরিস্থিতি জাতিসংঘের মূল আদর্শের পরিপন্থি। ড. খলিলুর রহমান আরও বলেন যে বাংলাদেশের সংবিধান শুরু থেকেই মানবাধিকার, সমতা ও মর্যাদা রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দেশ একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে। বর্ণবাদমুক্ত বিশ্ব গড়ার লক্ষ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী তিনটি বিশেষ বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন যার মধ্যে প্রথমটি হলো বর্ণবাদবিরোধী মানসিকতা গড়ে তুলতে শিক্ষায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও সচেতনতা তৈরি করা।
এর পাশাপাশি তিনি অনলাইনে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য বা হেট স্পিচ কঠোরভাবে প্রতিরোধ করার মাধ্যমে ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিভিন্ন জাতির মধ্যে আন্তঃসাংস্কৃতিক সংলাপ জোরদার করার ওপর বিশেষ জোর দেন। পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক বিনিময় বৃদ্ধির মাধ্যমে একটি মানবিক বিশ্ব গড়ার স্বপ্ন তুলে ধরেন তিনি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্যে স্পষ্ট করেন যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এখনই বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে কার্যকর এবং দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে। তার এই সময়োপযোগী প্রস্তাবগুলো সাধারণ পরিষদে উপস্থিত বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে বিশেষ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মানবিক মর্যাদা ও মানবাধিকার রক্ষায় বাংলাদেশের এই জোরালো অবস্থান বিশ্বমঞ্চে প্রশংসিত হয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন