মার্চ ২৪, ২০২৬, ০৬:১৩ পিএম
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার অন্যতম অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ এবং তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ভারতের রাজধানী দিল্লিতে নিয়ে গেছে দেশটির জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ)। মঙ্গলবার তাদের দিল্লির এনআইএ আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে।
এর আগে গত রোববার কলকাতার বিধাননগর মহকুমা আদালত তাদের ট্রানজিট রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিলে সোমবার রাতে কড়া নিরাপত্তায় দমদম সেন্ট্রাল জেল থেকে তাদের এনআইএ হেফাজতে নেওয়া হয় এবং বিমানযোগে দিল্লিতে স্থানান্তর করা হয়।
তবে এই মামলায় ভারতে গ্রেপ্তার হওয়া তৃতীয় বাংলাদেশি নাগরিক ফিলিপ সাংমাকে আপাতত হেফাজতে নেওয়ার কোনো আবেদন করেনি এনআইএ।গত বছরের ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পুরানা পল্টন এলাকায় মাথায় গুলিবিদ্ধ হন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি।
গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলেও ১৮ ডিসেম্বর সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বাংলাদেশের গোয়েন্দা পুলিশ ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে যার মধ্যে ১২ জন বর্তমানে বাংলাদেশে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। প্রধান দুই আসামি ফয়সাল ও আলমগীর সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে পালিয়ে গেলেও গত ৭ মার্চ পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে স্থানীয় পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স বা এসটিএফ।
আদালতে নেওয়ার পথে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ফয়সাল করিম মাসুদ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেন। সিসিটিভি ফুটেজে তার উপস্থিতির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি দাবি করেন যে ঘটনাস্থলে তিনি উপস্থিত ছিলেন না এবং ফুটেজে তাকে গুলি করতেও দেখা যায়নি। তবে পুলিশের দাবি অনুযায়ী প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তরা হত্যাকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করেছে।
বর্তমানে এনআইএ এই আসামিদের হেফাজতে নিয়ে নতুন করে জিজ্ঞাসাবাদের প্রস্তুতি নিচ্ছে যাতে হত্যাকাণ্ডের পেছনের রহস্য এবং আন্তর্জাতিক কোনো যোগাযোগ আছে কি না তা খতিয়ে দেখা যায়। দিল্লির আদালতে পুনরায় শুনানির পর তাদের রিমান্ডের সময়সীমা নির্ধারিত হবে বলে আইনি সূত্রে জানা গেছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন