সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ওয়াশিংটনে শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে জুবাইদা রহমানের প্রতিশ্রুতি

জাতীয় ডেস্ক

মার্চ ২৫, ২০২৬, ০৯:৫২ এএম

ওয়াশিংটনে শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে জুবাইদা রহমানের প্রতিশ্রুতি

সম্মেলনে ডা. জুবাইদা রহমান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান বর্তমানে দুই দিনের সরকারি সফরে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে অবস্থান করছেন। মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের বিশেষ আমন্ত্রণে ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার: গ্লোবাল কোয়ালিশন সামিট শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের এক সম্মেলনে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে তিনি এই সফর করছেন। মঙ্গলবার ও বুধবার অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে বিশ্বের ৪০টিরও বেশি দেশের ফার্স্ট লেডি ও রাষ্ট্রনেতাদের সহধর্মিণীরা অংশ নিয়েছেন। 

এই সম্মেলনটি মূলত বিশ্বব্যাপী শিশুদের কল্যাণ, সম্ভাবনা উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে। ডা. জুবাইদা রহমান সম্মেলনে একজন চিকিৎসক হিসেবে প্রতিটি শিশুর জন্য সহজলভ্য ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরে সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে মেলানিয়া ট্রাম্পের বক্তব্যের পর ডা. জুবাইদা রহমান তাঁর বক্তব্য পেশ করেন। তিনি শিশুদের নিরাপদ পরিবেশে বেড়ে ওঠা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাংলাদেশে নবনির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারের নেওয়া বিভিন্ন কল্যাণমুখী পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন। 

বিশেষ করে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে সরকার ঘোষিত ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড প্রদানের গুরুত্ব তিনি বিশ্বনেতাদের সামনে ব্যাখ্যা করেন। তিনি জানান যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রগতিশীল জাতি গঠনের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে তিনি কেবল চিকিৎসার ওপর নয়, বরং জীবনের প্রাথমিক পর্যায় থেকেই রোগ প্রতিরোধের ওপর জোর দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেন।

শিক্ষাক্ষেত্রে পরিবর্তনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দায়িত্বশীল ব্যবহারের মাধ্যমে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে রূপান্তরিত করা সম্ভব। জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন এবং সুরভী-এর মতো অলাভজনক সংস্থার সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, বর্তমান সরকার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল যুগের জন্য প্রস্তুত করছে। শিক্ষকদের জন্য ট্যাবলেট কম্পিউটার সরবরাহ, ডিজিটাল পাঠ্যক্রম এবং মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষ চালুর মাধ্যমে শহরের ও গ্রামের শিক্ষার বৈষম্য দূর করার চেষ্টা চলছে। 

তিনি প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে নৈতিকতা ও নিরাপত্তার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান যাতে শিশুরা একটি সহায়ক পরিবেশে বেড়ে উঠতে পারে।সম্মেলনের পাশাপাশি তিনি যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন। সেখানে শিশুদের শিক্ষার উন্নয়নে ব্যবহৃত বিভিন্ন উদ্ভাবনী প্রযুক্তি সম্পর্কে তিনি ও তাঁর প্রতিনিধিদল বিস্তারিত ধারণা লাভ করেন। ডা. জুবাইদা রহমানের এই সফরে তাঁর সঙ্গে রয়েছেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. মোর্শেদ হাসান খান, অর্থোপেডিক সার্জন ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ এবং ব্যারিস্টার মেহনাজ মান্নান। 

সফরের দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ বুধবার হোয়াইট হাউসে মার্কিন ফার্স্ট লেডির আয়োজনে অনুষ্ঠিত সমাপনী অধিবেশনে তাঁর অংশগ্রহণের কথা রয়েছে। নারীর ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন যে, বাংলাদেশে নারী অধিকার ও শিক্ষার প্রসারে দীর্ঘদিনের একটি শক্তিশালী ঐতিহ্য রয়েছে। বৈশ্বিক এই সম্মেলনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বিশ্বদরবারে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।