মার্চ ২৫, ২০২৬, ০৯:৩১ পিএম
দেশে বর্তমানে এক মাসের ব্যবহারের জন্য পর্যাপ্ত জ্বালানি তেলের মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। বুধবার ২৫ মার্চ সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেন। সারা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জ্বালানি তেলের সংকটের খবর আসার প্রেক্ষাপটে সরকারের পক্ষ থেকে এই স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হলো।
সচিব জানান, তেলের মজুত আরও বাড়াতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উৎস থেকে নিয়মিত ক্রয় কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি ব্যক্তিগতভাবে পর্যালোচনা করেছেন।
তিনি জ্বালানি আমদানির বর্তমান অবস্থা, গৃহীত পদক্ষেপ এবং মজুত পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। আগে সাধারণত দেশে ১৫ দিনের তেলের মজুত রাখা হতো, কিন্তু বর্তমানে রিজার্ভ বাড়িয়ে এক মাসের সমান করা হয়েছে। ফলে বাজারে সরবরাহ নিয়ে বিচলিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার আমদানির প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করেছে।
বাজারে জ্বালানি তেলের সংকট হতে পারে এমন আশঙ্কায় সাধারণ মানুষের অতিরিক্ত তেল কিনে মজুত করার প্রবণতাকে নিরুৎসাহিত করেছেন সচিব। তিনি উল্লেখ করেন, প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল কিনে রাখলে তা নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে। জনগণের মাঝে যখন আস্থা ফিরে আসবে, তখন বাজার পরিস্থিতি নিজে থেকেই স্বাভাবিক হয়ে যাবে। তেলের দাম বাড়ানো হতে পারে এমন গুজব প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন যে, এ ধরনের কোনো তথ্য তার কাছে নেই এবং আপাতত তেলের দাম বাড়ানোর কোনো লক্ষণও পরিলক্ষিত হচ্ছে না। এছাড়া জেট ফুয়েলের আন্তর্জাতিক বাজার দর নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে এর সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে।
জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করতে মন্ত্রিসভা কমিটি ইতিমধ্যে স্পট মার্কেট থেকে দুই কার্গো এলএনজি কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। সচিব জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে যখনই তেলের দাম অনুকূলে থাকে বা কোনো বিশেষ চুক্তির আওতায় তেল পাওয়া যায় না, তখন দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে স্পট মার্কেট থেকে আমদানি করা হয়। সরকার সময়মতো সব পদক্ষেপ গ্রহণ করছে যাতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি না হয়। সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে সব ধরনের জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রাখা হচ্ছে এবং আমদানির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হচ্ছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন