সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ভুয়া ঠিকানায় পুলিশে নিয়োগ ৬৪ জেলায় তদন্ত শুরু

জাতীয় ডেস্ক

মার্চ ২৬, ২০২৬, ১০:৫০ পিএম

ভুয়া ঠিকানায় পুলিশে নিয়োগ ৬৪ জেলায় তদন্ত শুরু

পুলিশে নিয়োগ তদন্ত

বিগত সরকারের আমলে দলীয় পরিচয়ে ভুয়া ঠিকানা ও তথ্য ব্যবহার করে পুলিশ বাহিনীতে নিয়োগ পাওয়া সদস্যদের চিহ্নিত করতে দেশজুড়ে বড় পরিসরে তদন্ত শুরু হয়েছে। পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনতে সদর দপ্তর এই শুদ্ধি অভিযান পরিচালনা করছে। 

গত পনেরো মার্চ পুলিশ সদর দপ্তর থেকে দেশের চৌষট্টি জেলার পুলিশ সুপারের কাছে একটি চিঠি পাঠানো হয়। চিঠিতে প্রতিটি জেলায় চার সদস্যের একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী পনেরো এপ্রিলের মধ্যে এই কমিটিকে বিস্তারিত ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন সদর দপ্তরে জমা দিতে বলা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বিগত সতেরো বছরে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পুলিশে এই অভাবনীয় নিয়োগ জালিয়াতি সংঘটিত হয়। তৎকালীন ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে এই জালিয়াতির মূল ছক কষানো হয়েছিল বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। 

মূলত গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, শরীয়তপুর, মাদারীপুর, বাগেরহাট এবং খুলনা জেলার সরকারদলীয় ছাত্র সংগঠনের কর্মীদের সুবিধা দিতেই এই কৌশল নেওয়া হয়। নিজেদের জেলার কোটা পূর্ণ হয়ে যাওয়ার পর এই কর্মীদের দেশের অন্যান্য জেলার কোটায় চাকরি দেওয়া হয়। জালিয়াতি আড়াল করার জন্য পরিকল্পিতভাবে অন্য জেলায় জমি কিনে এবং প্রভাব খাটিয়ে ভুয়া স্থায়ী ঠিকানা তৈরি করা হয়েছিল। 

এভাবে নিয়মবহির্ভূতভাবে নিয়োগ পাওয়া কনস্টেবলরা পরবর্তীতে পদোন্নতি পেয়ে সহকারী উপপরিদর্শক এবং উপপরিদর্শক পদেও উন্নীত হন।গত জুলাই ও আগস্ট মাসে সংঘটিত ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আন্দোলনকারীদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালানোর ঘটনায় এই জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া সদস্যদের সম্পৃক্ততার প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এদের চিহ্নিত করে আইনি আওতায় আনতেই পুলিশ সদর দপ্তর কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। 

জালিয়াতি শনাক্ত করতে তদন্ত কমিটিকে ছয়টি সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে লিখিত পরীক্ষায় কম নম্বর পেয়েও মৌখিক পরীক্ষায় অস্বাভাবিক বেশি নম্বর পাওয়া সদস্যদের বিশেষভাবে যাচাই করার বিষয়টি উল্লেখযোগ্য। এই অভ্যন্তরীণ তদন্তের মাধ্যমে বিগত আমলের নিয়োগ বাণিজ্যের প্রকৃত চিত্র এবং চক্রের হোতাদের বিস্তারিত তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদী।