মার্চ ২৮, ২০২৬, ১১:০৯ পিএম
লিবিয়া থেকে সমুদ্রপথে ইউরোপের দেশ গ্রিসে যাওয়ার সময় ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবির ঘটনায় অন্তত ২২ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানোদের মধ্যে ১০ জনই বাংলাদেশের সুনামগঞ্জ জেলার বাসিন্দা বলে সর্বশেষ তথ্যে নিশ্চিত হওয়া গেছে। ইউরোপীয় সীমান্ত সংস্থার একটি জাহাজ গত শুক্রবার ভোরে গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের কাছ থেকে এক নারী ও এক শিশুসহ ২৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করে।
উদ্ধারকৃতদের মধ্যে ২১ জনই বাংলাদেশি নাগরিক বলে জানা গেছে। তবে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী প্রাণ হারানো অনেকের মরদেহ সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নিহতদের মধ্যে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার তারাপাশা গ্রামের নুরুজ্জামান ময়না, সাজিদুর রহমান এবং শাহান এহিয়ার পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। একই উপজেলার রনারচর গ্রামের মুজিবুর রহমান এবং দোয়ারাবাজার উপজেলার কবিরনগর গ্রামের ফাহিম আহমেদ মুন্নাও এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন।
এছাড়া জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার আরও পাঁচজন অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিহতদের পরিবার সূত্রে জানা গেছে যে স্থানীয় দালাল চক্রের মাধ্যমে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে গত রমজান মাসে তারা লিবিয়ার উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়েন। সেখান থেকে নৌকাযোগে অবৈধভাবে গ্রিসে প্রবেশের চেষ্টাকালে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে।উদ্ধার হওয়া ২৬ জনের মধ্যে বাংলাদেশের ২১ জন ছাড়াও দক্ষিণ সুদানের চারজন এবং চাদের একজন নাগরিক রয়েছেন। তাদের মধ্যে দুইজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ক্রিটের হেরাক্লিয়ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
লিবিয়া ও তিউনিসিয়া উপকূল হয়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে প্রবেশের এই ঝুঁকিপূর্ণ পথটি বর্তমানে মানবপাচারকারীদের অন্যতম প্রধান রুটে পরিণত হয়েছে। সুনামগঞ্জের এই দশ যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যুতে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দালালদের খপ্পরে পড়ে এভাবে অকালে প্রাণ হারানোর ঘটনা দেশের প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধা এবং তাদের পরিবারগুলোর জন্য এক বড় সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন