মার্চ ২৯, ২০২৬, ০৯:৩১ এএম
বন্ধ্যত্ব সমস্যা নিরসনে প্রজনন সহায়ক প্রযুক্তি আইভিএম গবেষণায় বড় ধরনের সাফল্য অর্জন করেছেন বাংলাদেশি চিকিৎসক ড. আশরাফুন নাহার। পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম বা পিসিওএস আক্রান্ত নারীদের বন্ধ্যত্ব দূর করার ক্ষেত্রে তাঁর নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণা নতুন এক আশার আলো দেখাচ্ছে।
সম্প্রতি আমেরিকার কলোরাডো সেন্টার ফর রিপ্রোডাক্টিভ মেডিসিনে এই গবেষণাটি পরিচালিত হয় এবং আমেরিকান সোসাইটি ফর রিপ্রোডাক্টিভ মেডিসিনের বার্ষিক সম্মেলনে এই সাফল্যের তথ্য উপস্থাপন করা হয়। শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই উদ্ভাবনী সাফল্যের কথা জানানো হয়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে যে আইভিএম বা ইন ভিট্রো ম্যাচুরেশন প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বন্ধ্যত্ব আক্রান্ত নারীদের শরীর থেকে অপরিপক্ক ডিম্বাণু সংগ্রহ করে ল্যাবরেটরিতে কৃত্রিমভাবে পরিপক্ক করা সম্ভব।
ড. নাহার ও তাঁর সহকর্মীরা পিসিওএস আক্রান্ত রোগীদের ওপর এই পরীক্ষা চালিয়ে ডিম্বাণুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পরিপূরকের বিশেষ উপকারিতা খুঁজে পেয়েছেন। প্রচলিত আইভিএফ পদ্ধতির তুলনায় এই পদ্ধতিতে হরমোন ইনজেকশনের প্রয়োজনীয়তা অনেক কম থাকে। ফলে নারীদের শরীরে হরমোনজনিত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা ডিম্বাশয় ফুলে যাওয়ার মতো জটিল ঝুঁকি প্রায় পুরোপুরি দূর করা সম্ভব হয়।
ড. আশরাফুন নাহার ও তাঁর চিকিৎসক দলটি গবেষণার জন্য গড়ে ৩০ বছর বয়সী পিসিওএস আক্রান্ত ১৫ জন নারীর নমুনা ব্যবহার করেন। গবেষকরা হিউম্যান কোরিওনিক গোনাডোট্রপিন প্রয়োগ ছাড়াই ডিম্বাণু সংগ্রহ করে সেগুলোকে বিশেষ ইনকিউবেশন সিস্টেমে পরিপক্ক করেন। কলোরাডো সেন্টার ফর রিপ্রোডাক্টিভ মেডিসিনের গবেষণা পরিচালক ড. ইয়ে ইউয়ান জানান যে এই পদ্ধতিতে হরমোন উদ্দীপক ওষুধের প্রয়োজন কম হওয়ায় ওভারিয়ান হাইপারস্টিমুলেশন সিনড্রোমের মতো বিপজ্জনক পরিস্থিতি এড়ানো যায়।
বর্তমান আইভিএম গবেষণা থেকে ইতোমধ্যে পাঁচটি জীবিত শিশুর জন্ম হয়েছে এবং সব মিলিয়ে এই কেন্দ্রে মোট ১৪টি শিশুর জন্ম নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।এই গবেষণার সাফল্য কেবল বৈশ্বিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করেনি বরং প্রজনন সমস্যায় ভোগা পিসিওএস রোগীদের জন্য সাশ্রয়ী ও নিরাপদ চিকিৎসার পথ সুগম করেছে।
বন্ধ্যত্ব নিরাময়ে আইভিএমের এই আধুনিক পদ্ধতি আগামীতে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাবে বলে গবেষকরা আশা প্রকাশ করছেন। প্রজনন প্রযুক্তিতে এমন উদ্ভাবনী কাজ বাংলাদেশি চিকিৎসকদের পেশাদারিত্ব ও আন্তর্জাতিক সক্ষমতারই প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন