সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

লামিয়া-নিয়াজ-সেলিমকে রাষ্ট্রদূত করছে না বর্তমান সরকার

জাতীয় ডেস্ক

মার্চ ২৯, ২০২৬, ১০:৫৭ এএম

লামিয়া-নিয়াজ-সেলিমকে রাষ্ট্রদূত করছে না বর্তমান সরকার

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে শুরু হওয়া লামিয়া মোর্শেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য সাবেক উপাচার্য ড. নিয়াজ আহমেদ খান এবং সাবেক সচিব সেলিম উদ্দিনকে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়াটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্থগিত করেছে বর্তমান সরকার। চলতি মাসের প্রথম ভাগে পাঁচটি দেশ থেকে রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনার প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

 মূলত পেশাদার ও অভিজ্ঞ কূটনীতিকদের পরিবর্তে রাজনৈতিক বিবেচনায় রাষ্ট্রদূত নিয়োগের যে ধারা গত সরকার শুরু করেছিল সেখান থেকে সরে আসার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে বর্তমান প্রশাসন।

সূত্র অনুযায়ী রাজনৈতিক বিবেচনায় নেদারল্যান্ডসে রাষ্ট্রদূত হিসেবে লামিয়া মোর্শেদের নাম চূড়ান্ত করে ডাচ সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব বা এগ্রিমো পাঠানো হয়েছিল। তবে গত বছরের নভেম্বরে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয় এবং ইউনূস প্রশাসন বিদায়ের শেষ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করলেও নেদারল্যান্ডস সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ইতিবাচক সাড়া মেলেনি। 

একইভাবে ডেনমার্কে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে ড. নিয়াজ আহমেদ খানের নাম প্রস্তাব করা হলেও পরবর্তীতে তা কার্যকর হয়নি। ইরানের রাষ্ট্রদূত হিসেবে তাঁর নামে এগ্রিমো পাওয়া গেলেও যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিতে যেতে তিনি অনীহা প্রকাশ করেছিলেন বলে জানা গেছে।অন্যদিকে সাবেক বাণিজ্য সচিব সেলিম উদ্দিনকে মিশরের কায়রোতে পাঠানোর জন্য গত বছরের অক্টোবরে এগ্রিমো চাওয়া হয়েছিল তবে মিশরীয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো উত্তর আসেনি। 

বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পর নেদারল্যান্ডসে নতুন রাষ্ট্রদূত হিসেবে থাইল্যান্ডে কর্মরত পেশাদার কূটনীতিক ফাইয়াজ মুর্শিদ কাজীকে নিয়োগ দিয়েছেন। ইতোমধ্যে ডাচ সরকারের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়াও পাওয়া গেছে। আগামী মে-জুন মাসে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচনের কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর তিনি হেগে তাঁর নতুন দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন।রাজনৈতিক বিবেচনায় এই তিনজনের নিয়োগ বাতিল করার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের বক্তব্যে একপ্রকার নিশ্চিত হওয়া গেছে। 

তিনি এক লিখিত বার্তায় জানিয়েছেন যে আগের সরকারের সময় রাজনৈতিক বিবেচনায় নেওয়া রাষ্ট্রদূত নিয়োগের মতো বিষয়গুলো পুনরায় বিবেচনা করার কোনো পরিকল্পনা বর্তমান সরকারের নেই। বর্তমান সরকারের এই অবস্থানটি মূলত বাংলাদেশের কূটনীতিতে পেশাদারিত্ব ফিরিয়ে আনার একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। এতে করে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রথার বাইরে গিয়ে মেধাবী ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।