এপ্রিল ২, ২০২৬, ০৯:৪৮ এএম
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েছে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে, যার ফলে তৈরি হওয়া অস্থিরতা মোকাবিলায় নতুন পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে সরকার। এই জ্বালানি সাশ্রয় কৌশলের অংশ হিসেবে দেশের মহানগর এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে অনলাইন ক্লাস চালুর বিষয়ে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা চলছে।
মূলত বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরাসরি উপস্থিতি ও অনলাইন কার্যক্রমের একটি সমন্বিত বা ব্লেন্ডেড পদ্ধতি চালুর পরিকল্পনা করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে আজ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আজকের মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে এই প্রস্তাবটি উত্থাপন করা হতে পারে। প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় মহানগরীর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সপ্তাহে ছয় দিনের মধ্যে তিন দিন সরাসরি এবং বাকি তিন দিন অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
এক্ষেত্রে একদিন সশরীরে ক্লাসের পরদিন অনলাইনে পাঠদান—এই পালাক্রমে কার্যক্রম পরিচালনার কথা ভাবা হচ্ছে। তবে অনলাইন ক্লাসের সময় শিক্ষার্থীদের বাড়িতে থাকলেও শিক্ষকদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। ব্যবহারিক বা প্র্যাকটিক্যাল ক্লাসের গুরুত্ব বিবেচনায় সেগুলো সশরীরে নেওয়ার সিদ্ধান্ত বহাল থাকতে পারে।
এর আগে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এই পরিকল্পনার বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তিনি জানান, জ্বালানি সাশ্রয়ের এই বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভার বৈঠকে আলোচনার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং সেখান থেকেই সব শেষ নির্দেশনা আসবে। দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে যাতায়াত ও বিদ্যুৎ খরচ কমাতেই এমন উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে বলে মনে করছেন শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
উল্লেখ্য যে, এর আগে করোনা অতিমারির সময় ২০২০ সালের মার্চ মাস থেকে দীর্ঘ সময় দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছিল। সেই সময় সংসদ টেলিভিশন ও বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিকল্প উপায়ে পাঠদান চালু রাখা হয়। যদিও পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন গবেষণায় অনলাইন পদ্ধতির কার্যকারিতা নিয়ে নানামুখী বিতর্ক ও সীমাবদ্ধতার কথা উঠে এসেছিল।
তবে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন হওয়ায় এবং শিক্ষকদের প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত থাকার বাধ্যবাধকতা থাকায় এই উদ্যোগটি কতটুকু ফলপ্রসূ হয়, তা নিয়েই এখন আলোচনা চলছে। মূলত সরকারের আজকের সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে আগামী সপ্তাহ থেকে দেশের শহরের শিক্ষাব্যবস্থা কোন দিকে যাচ্ছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন