এপ্রিল ২, ২০২৬, ১১:৪০ এএম
জ্বালানি সাশ্রয়ের অজুহাতে সরকারি অফিসের সময়সূচি পরিবর্তন এবং হোম অফিস সংক্রান্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি পত্রকে সম্পূর্ণ ভুয়া ও ভিত্তিহীন বলে ঘোষণা করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার সকালে মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
এতে বলা হয়, একটি অসাধু চক্র উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াতে এই জাল প্রজ্ঞাপনটি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দিয়েছে।বুধবার দুপুরের পর থেকেই ফেসবুকে একটি স্মারক পত্র ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়।
সেখানে দাবি করা হয়েছিল যে, বিশ্বব্যাপী তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং বর্তমান বিদ্যুৎ পরিস্থিতি বিবেচনায় সপ্তাহে সশরীরে অফিস চলবে মাত্র তিন দিন—রবিবার, সোমবার ও মঙ্গলবার। বাকি দুই দিন বুধবার ও বৃহস্পতিবার ঘরে বসে বা হোম অফিসের মাধ্যমে দাপ্তরিক কাজ সারার নির্দেশনা ছিল ওই পত্রে।
তবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ বা দাপ্তরিক পত্র জারি করা হয়নি।প্রশাসন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ছড়িয়ে পড়া ওই ভুয়া পত্রে বেশ কিছু অসংগতি ধরা পড়েছে। সেখানে উপসচিব মো. আসাদুজ্জামান নামের একজনের স্বাক্ষর ব্যবহার করা হয়েছে। তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন-১ শাখায় এই নামে বর্তমানে কোনো কর্মকর্তা কর্মরত নেই।
এছাড়াও সরকারি প্রজ্ঞাপনের চিরাচরিত ফন্ট `সুতনি এমজে`র পরিবর্তে অন্য একটি ফন্ট ব্যবহার করা হয়েছে সেখানে। এমনকি শাপলা প্রতীকের সিলের যে ধরন ওই পত্রে দেখা গেছে, তা মন্ত্রণালয়ের দাপ্তরিক পত্রের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, ১ এপ্রিল তারিখের ০৫.০০.০০০০.১১০.২২.০৪৫.২৬.১২০ নম্বর স্মারকটি সম্পূর্ণ ভুয়া।
দেশের সাধারণ মানুষ এবং সরকারি কর্মচারীদের এই বানোয়াট তথ্যে কান না দেওয়ার এবং কোনো ধরনের বিভ্রান্তি না ছড়ানোর জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে। যারা এই ধরনের অপপ্রচার ও গুজব ছড়াচ্ছে, তাদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে সরকারি অফিসের স্বাভাবিক সময়সূচি ও নিয়ম আগের মতোই কার্যকর রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন