শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬,

হাসনাতের বিরুদ্ধে পয়েন্ট অব অর্ডার উত্থাপন করলেন পানিসম্পদ মন্ত্রী

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ২, ২০২৬, ০৬:১৮ পিএম

হাসনাতের বিরুদ্ধে পয়েন্ট অব অর্ডার উত্থাপন করলেন পানিসম্পদ মন্ত্রী

সংসদে এ্যানি ও হাসনাত

জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সম্পূরক প্রশ্ন করতে গিয়ে সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহর করা একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। ‘মন্ত্রীরা প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে পাশ কাটিয়ে যাচ্ছেন’—এমন বক্তব্যের প্রতিবাদে পয়েন্ট অব অর্ডার উত্থাপন করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। 

বৃহস্পতিবার সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। মন্ত্রী এ্যানি চৌধুরী দাবি করেন, হাসনাত আব্দুল্লাহর এমন ঢালাও মন্তব্যে তাঁর ব্যক্তিগত এবং মন্ত্রিসভার সদস্যদের সামগ্রিক অধিকার ক্ষুণ্ণ হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রীর কাছে একটি সম্পূরক প্রশ্ন করছিলেন। ওই সময় তিনি তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, বর্তমান মন্ত্রীদের মধ্যে জনগুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলো এড়িয়ে যাওয়ার একটি প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

 হাসনাতের এমন সরাসরি আক্রমণের পরপরই পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি ফ্লোর নিয়ে স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি যুক্তি দেখান যে, নির্দিষ্ট কোনো মন্ত্রী সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে সেটি ভিন্ন বিষয়, কিন্তু ‘মন্ত্রীরা পাশ কাটিয়ে যাচ্ছেন’—এভাবে বহুবচন ব্যবহার করা সংসদীয় শিষ্টাচারের পরিপন্থী এবং অবমাননাকর।পয়েন্ট অব অর্ডারে শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি স্পিকারকে সম্বোধন করে বলেন, একজন সংসদ সদস্য যখন ঢালাওভাবে মন্ত্রীদের অভিযুক্ত করেন, তখন তা প্রত্যেকের সংসদীয় অধিকারে আঘাত হানে।

 

তিনি সরাসরি দাবি করেন যে, হাসনাত আব্দুল্লাহর এই বক্তব্যে তাঁর নিজের অধিকারও ক্ষুণ্ণ হয়েছে। এ সময় তিনি সংসদের কার্যবিবরণী থেকে এই ‘মন্ত্রীরা’ শব্দটি এক্সপাঞ্জ বা প্রত্যাহারের জন্য জোরালো অনুরোধ জানান। মন্ত্রী আরও স্পষ্ট করেন যে, কোনো সদস্যের নির্দিষ্ট প্রশ্ন থাকলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী তার উত্তর দেবেন, কিন্তু পুরো মন্ত্রিসভাকে একযোগে প্রশ্নের মুখোমুখি করা বা অভিযুক্ত করা কাম্য নয়।

উভয় পক্ষের কথা শোনার পর স্পিকার মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ একটি তাৎক্ষণিক রুলিং প্রদান করেন। স্পিকার তাঁর সিদ্ধান্তে জানান যে, যদি সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ অনিচ্ছাকৃতভাবে বা ঢালাওভাবে সকল মন্ত্রীর ক্ষেত্রে এই বহুবচনবাচক মন্তব্য করে থাকেন, তবে ‘মন্ত্রীরা’ শব্দের শেষে থাকা ‘রা’ বিভক্তিটি বাদ যাবে বা সেটি রেকর্ড থেকে মুছে ফেলা হবে। তবে তিনি যদি কেবল ওই নির্দিষ্ট মন্ত্রী সম্পর্কে এই মন্তব্য করে থাকেন, তবে সেটি আগের মতোই বহাল থাকবে। সংসদীয় রীতি অনুযায়ী শব্দের এমন সূক্ষ্ম বিশ্লেষণের মাধ্যমে স্পিকার ওই মুহূর্তের উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা করেন।