এপ্রিল ২, ২০২৬, ০৭:৫২ পিএম
সংসদীয় বিশেষ কমিটি অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই শেষে তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জাতীয় সংসদে জমা দিয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদনটি আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করা হয়। প্রতিবেদনে অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া আইনি পদক্ষেপগুলোকে স্থায়ী রূপ দিতে ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ২০টি অধ্যাদেশ বিলুপ্ত বা বাতিল করার জন্য সুনির্দিষ্ট সুপারিশ প্রদান করা হয়েছে।
এই পদক্ষেপের মাধ্যমে গত কয়েক মাসের বিশেষ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে জারি করা আইনগুলোর ভবিষ্যৎ কার্যকারিতা ও সংশোধনের বিষয়ে একটি বিস্তারিত রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে।
সংসদীয় কমিটির দেওয়া ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, পর্যালোচিত ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি অধ্যাদেশ কোনো প্রকার পরিবর্তন ছাড়াই বর্তমান অবস্থায় বহাল রাখার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া ১৫টি অধ্যাদেশ প্রয়োজনীয় কিছু সংশোধনীর মাধ্যমে কার্যকর রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কমিটির পক্ষ থেকে ২০টি অধ্যাদেশ পুরোপুরি বিলুপ্ত বা বাতিলের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সংসদীয় সূত্রগুলো জানায় যে, এই যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার মূল উদ্দেশ্য ছিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেওয়া জরুরি আইনি পদক্ষেপগুলোর আইনি ভিত্তি এবং জনস্বার্থ নিশ্চিত করা।বাতিল করার জন্য সুপারিশ করা ২০টি অধ্যাদেশের বিষয়ে প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১৬টি অধ্যাদেশ বর্তমানে বিলুপ্ত করার প্রস্তাব করা হলেও পরবর্তীতে সেগুলোকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে নতুন করে বিল আকারে সংসদে উত্থাপন করার কথা বলা হয়েছে।
বাকি ৪টি অধ্যাদেশ স্থায়ীভাবে বাতিল ও সংরক্ষণের জন্য সুপারিশ করেছে কমিটি। এই সুপারিশগুলো এখন সংসদে উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য গৃহীত হবে। এর মাধ্যমে অন্তর্বর্তীকালীন শাসনের আইনি প্রভাবগুলো একটি সুশৃঙ্খল আইনি কাঠামোয় রূপান্তরিত হবে।প্রতিবেদনটি কমিটির অধিকাংশ সদস্যের সম্মতিতে তৈরি হলেও ২০টি অধ্যাদেশের বিভিন্ন বিষয়ে বিরোধী দলীয় সদস্যরা তীব্র দ্বিমত পোষণ করেছেন। তাঁরা ইতিমধ্যে এ বিষয়ে তাদের ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা লিখিত আপত্তি প্রদান করেছেন।
বিশেষ করে অপরিবর্তিত রাখার সুপারিশ করা ৪টি অধ্যাদেশ এবং সংশোধনের সুপারিশ করা ২টি অধ্যাদেশ নিয়ে বিরোধীদের জোরালো আপত্তি রয়েছে। এছাড়া বাতিল করে পুনরায় বিল আকারে আনার তালিকায় থাকা ১১টি এবং স্থায়ীভাবে বাতিলের তালিকায় থাকা ৩টি অধ্যাদেশ নিয়েও তাঁরা ভিন্নমত জানিয়েছেন।
সংসদীয় এই বিশেষ কমিটির প্রতিবেদনটি পর্যালোচনার মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারের আইনি কাঠামোকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় স্থায়ী রূপ দেওয়ার পথ সুগম হবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। পরবর্তী অধিবেশনে এই সুপারিশগুলোর ওপর সাধারণ আলোচনা ও ভোটাভুটি শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হতে পারে। সংসদ সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হবে এই অধ্যাদেশগুলোর চূড়ান্ত পরিণতি।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন