রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬,

সরকারি-বেসরকারি অফিসের নতুন সময়সূচি নির্ধারণ

জাতীয় ডেস্ক

এপ্রিল ৪, ২০২৬, ১১:২০ পিএম

সরকারি-বেসরকারি অফিসের নতুন সময়সূচি নির্ধারণ

অফিসের নতুন সময়সূচি ঘোষণা

দেশের চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সব সরকারি ও বেসরকারি অফিসের জন্য নতুন সময়সীমা নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। শনিবার (৪ এপ্রিল) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিধি-৪ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।। উপসচিব ফরিদা ইয়াসমিনের সই করা এই নির্দেশনা অনুযায়ী, সপ্তাহের রোববার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি অফিস সকাল ৯টায় শুরু হয়ে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে। তবে শুক্র ও শনিবার—সপ্তাহে এই দুই দিন নিয়মিত সাপ্তাহিক ছুটি বলবৎ থাকবে।

প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, আগামীকাল রোববার ৫ এপ্রিল থেকেই পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই নতুন সময়সূচি কার্যকর হবে। দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে এই প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। 

তবে বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও ফায়ার সার্ভিসের মতো জরুরি পরিষেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এই নতুন সময়সূচির আওতার বাইরে থাকবে। অর্থাৎ, জনস্বার্থে এসব প্রতিষ্ঠানের সেবা আগের মতোই নিরবচ্ছিন্নভাবে চালু থাকবে।

ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রেও নতুন সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোর অফিস সময় হবে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। তবে গ্রাহকদের জন্য ব্যাংকিং লেনদেনের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কারিগরি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকগুলোর অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম ও হিসাব মেলাতে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সময় বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

বিচার বিভাগের ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্ট নিজস্ব বিবেচনায় আদালতের অফিস সময়সূচি নির্ধারণ করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ রয়েছে। এছাড়া বেসরকারি খাতের শিল্প-প্রতিষ্ঠান ও কল-কারখানাগুলোর জন্য কর্মঘণ্টা নির্ধারণের বিষয়টি শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তারা বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ অনুসরণ করে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে। সরকারের এই উদ্যোগের ফলে বিদ্যুৎ খরচ উল্লেখযোগ্য হারে কমবে এবং জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করছেন নীতিনির্ধারকরা। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নতুন সময়সূচি বাস্তবায়নে মাঠ পর্যায়ে কড়া তদারকি থাকবে।