রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬,

আজ থেকে দিনে দুই বেলা চলবে সংসদ অধিবেশন

জাতীয় ডেস্ক

এপ্রিল ৭, ২০২৬, ১০:১৮ এএম

আজ থেকে দিনে দুই বেলা চলবে সংসদ অধিবেশন

জাতীয় সংসদ ভবন

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনে রূপান্তরের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রক্ষা করতে আজ মঙ্গলবার থেকে সংসদ অধিবেশন দিনে দুই বেলা বা দুই সেশনে চালানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংসদীয় কার্যোপদেষ্টা কমিটি। 

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতেই এই জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।নতুন সময়সূচি অনুযায়ী, অধিবেশনের প্রথম ধাপ প্রতিদিন সকাল সাড়ে ১০টায় শুরু হবে এবং দুপুর পর্যন্ত চলবে। 

এরপর মধ্যাহ্নভোজ ও নামাজের জন্য বিরতি দিয়ে বিকেল সাড়ে ৩টায় পুনরায় দ্বিতীয় ধাপের কার্যক্রম শুরু হবে, যা বিরতিহীনভাবে রাত পর্যন্ত চলবে। গতকাল সোমবার কার্যোপদেষ্টা কমিটির এক জরুরি বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। পরে জাতীয় সংসদে এই সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানান চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম।

অধিবেশন চলাকালে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশ আগামী ৯ এপ্রিলের মধ্যে পাস করার একটি আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করতেই মূলত সকাল-বিকেল দুই বেলা অধিবেশন চালানোর এই পরিকল্পনা। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, পরিস্থিতির প্রয়োজনে আগামী শুক্রবারও অধিবেশন বসতে পারে। পর্যাপ্ত সময় না থাকায় সব বিলের কপি আগেভাগে সংসদ সদস্যদের হাতে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব না হওয়ায় তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।

সংসদ সূত্রে জানা যায়, ইতোমধ্যে ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯টি অধ্যাদেশ বিল আকারে পাস হয়েছে। এর মধ্যে গতকাল সোমবারই সাতটি বিল পাস করা হয় এবং নতুন করে আরও তিনটি বিল উত্থাপন করা হয়েছে। তবে উত্থাপিত বিলগুলোর ওপর বিরোধী দলের পক্ষ থেকে কিছু আপত্তি ও সংশোধনী প্রস্তাব থাকায় সেগুলোর ওপর বিস্তারিত আলোচনা শেষে পরবর্তী কার্যদিবসে পাসের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যেসব বিলে সংসদীয় বিশেষ কমিটির সদস্যরা একমত হয়েছেন, সেগুলো দ্রুত পাসের প্রক্রিয়া চলছে।

সংসদীয় কার্যক্রমের এই ব্যস্ততা মূলত আগামী ১২ এপ্রিলের মধ্যে সব অধ্যাদেশ বিল আকারে পাসের বাধ্যবাধকতা থেকেই তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে যেসব বিলে ভিন্নমত বা নোট অফ ডিসেন্ট রয়েছে, সেগুলো আলাদাভাবে উপস্থাপনের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করা হচ্ছে বলে সংসদকে জানিয়েছেন চিফ হুইপ। সময়ের এই স্বল্পতা কাটিয়ে উঠতে সংসদ সদস্যদের উপস্থিতি ও সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।