রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬,

অন্তর্বর্তী সরকারের তিন অধ্যাদেশ বাতিলে সংসদে বিল

জাতীয় ডেস্ক

এপ্রিল ৭, ২০২৬, ১১:২০ এএম

অন্তর্বর্তী সরকারের তিন অধ্যাদেশ বাতিলে সংসদে বিল

সংসদে বিল উত্থাপন করছেন আইনমন্ত্রী

সুপ্রিম কোর্টের স্বতন্ত্র সচিবালয় প্রতিষ্ঠা এবং বিচারক নিয়োগে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিল করতে জাতীয় সংসদে বিল তোলা হয়েছে। একই সাথে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে জারি করা অধ্যাদেশ বাতিল করে ২০০৯ সালের পুরনো আইনটি পুনঃপ্রচলন করার প্রস্তাব দিয়ে আলাদা বিল আনা হয়েছে। 

গতকাল সোমবার আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান জাতীয় সংসদে বিল তিনটি উত্থাপন করেন। তবে এসব বিল নিয়ে বিশেষ কমিটিতে বিরোধী দলের আগে থেকেই আপত্তি থাকায় এখনই কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। 

আগামী বৃহস্পতিবার বা শুক্রবার বিলগুলো নিয়ে সংসদে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।গতকাল জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বিল উত্থাপনের সময় এক নজিরবিহীন নাটকীয়তা ও ভুলভ্রান্তির চিত্র দেখা গেছে। 

অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্বে থাকা ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল দিনের সম্পূরক কার্যসূচি অনুযায়ী যে বিলটি উত্থাপন করতে আইনমন্ত্রীকে আহ্বান জানিয়েছিলেন, মন্ত্রী সেটি না তুলে ভুলবশত অন্য একটি বিল উত্থাপন করেন। সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা যায়, ডেপুটি স্পিকার আইনমন্ত্রীকে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ রহিতকরণ বিল উত্থাপনের জন্য বললে মন্ত্রী সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় রহিতকরণ বিলটি সংসদে তোলেন। হাউসে বিলটি গৃহীতও হয়, তবে গ্রহণের সময় স্পিকারও ভুল করে সেটিকে বিচারক নিয়োগ বিল হিসেবে উল্লেখ করেন।

সংসদ কক্ষে এ নিয়ে সংসদ সদস্যদের মধ্যে কানাঘুষা শুরু হলে বিষয়টি আইনমন্ত্রীর নজরে আসে। তখন তিনি নিজের ভুল স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং আগের বিলটি প্রত্যাহার করে পুনরায় সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলটি উত্থাপন করেন। দেখা যায়, একটি নির্দিষ্ট বিল গতকাল সংসদে মোট তিনবার উত্থাপন করা হয়েছে। অন্যদিকে কার্যসূচিতে থাকা সুপ্রিম কোর্ট বিচারক নিয়োগ রহিতকরণ বিলটি স্পিকার দুইবার আহ্বান জানানো সত্ত্বেও যান্ত্রিক বা দাপ্তরিক ভুলের কারণে শেষ পর্যন্ত কার্যত উত্থাপিতই হয়নি। 

আইনমন্ত্রী এই ত্রুটির জন্য স্পিকারের প্রতি ইঙ্গিত দিলেও কার্যসূচি পর্যালোচনায় দেখা গেছে স্পিকারের আহ্বান সঠিক ছিল, মন্ত্রীর পক্ষ থেকেই বিলটি নির্বাচনে ভুল হয়েছিল।এসব জটিলতার মাঝেই গতকাল জাতীয় সংসদে নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ বা আরপিও সংশোধন বিল এবং ভোটার তালিকা সংশোধন বিলসহ মোট সাতটি বিল পাস করা হয়েছে। এর মধ্যে ছয়টি বিলের মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের বিভিন্ন অধ্যাদেশকে আইনি অনুমোদন দেওয়া হয়।

তবে সংসদীয় রেওয়াজ অনুযায়ী সাধারণত প্রথমে বিল পেশ এবং পরে পাসের নিয়ম থাকলেও গতকাল সংসদ অধিবেশনে পেশ ও পাসের কার্যক্রম অনেকটা মিশ্র আকারে সম্পন্ন হয়েছে। পাস হওয়া বিলগুলোর ওপর বিরোধী দলের কোনো সংশোধনী প্রস্তাব না থাকায় সেগুলো সরাসরি কণ্ঠভোটে পাস হয়ে যায়।এদিকে তামাক চাষ নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিভূমি সুরক্ষা সংক্রান্ত একটি বিল নিয়েও সংসদে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার গত জানুয়ারি মাসে তিন ফসলি জমিতে তামাক চাষ বন্ধের বিধান রেখে যে অধ্যাদেশ করেছিল, নতুন বিলে সেই তামাক চাষের ওপর নিষেধাজ্ঞার ধারাটি বাদ দেওয়া হয়েছে।

 সংশোধিত এই বিলে তিন ফসলি জমিতে তামাক চাষ বন্ধের পরিবর্তে তামাক চাষ সীমিত করার কথা বলা হয়েছে। যদিও কৃষি জমি অকৃষি কাজে ব্যবহার বা পাহাড় কাটা এবং জলাশয় ভরাটের মতো কাজগুলোকে এই বিলে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।অধিবেশনের এক পর্যায়ে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিলের কপি দেরিতে পাওয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। 

তিনি জানান, কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী বিলের কপি তিন দিন আগে পাওয়ার কথা থাকলেও তারা অধিবেশন শুরুর ঠিক আগ মুহূর্তে দীর্ঘ ৪৯ পৃষ্ঠার নথি হাতে পেয়েছেন। এর জবাবে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, আগামী ৯ এপ্রিলের মধ্যে ১৩৩টি অধ্যাদেশ পাস করার একটি আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সময় অত্যন্ত কম হওয়ায় এবং দাপ্তরিক চাপের কারণে সব বিলের কপি আগে দেওয়া সম্ভব হয়নি। এই সংকট উত্তরণে আজ মঙ্গলবার থেকে সকাল-বিকেল দুই বেলা অধিবেশন চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।