রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬,

দক্ষিণ এশিয়ায় শুধু বাংলাদেশই তেলের দাম বাড়ায়নি জ্বালানি মন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক

এপ্রিল ৭, ২০২৬, ১১:৫০ এএম

দক্ষিণ এশিয়ায় শুধু বাংলাদেশই তেলের দাম বাড়ায়নি জ্বালানি মন্ত্রী

জ্বালানি তেলের মজুত ও দাম

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক সংকটের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হলেও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র বাংলাদেশই এখন পর্যন্ত তেলের দাম বাড়ায়নি। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের উত্তরে এই তথ্য জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি উল্লেখ করেন যে, দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলো জ্বালানি তেলের সংকট মোকাবিলায় হিমশিম খাচ্ছে এবং জনগণের ওপর বাড়তি দামের বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছে।

বিদ্যুৎ মন্ত্রী সংসদে দেওয়া বক্তব্যে প্রতিবেশী দেশগুলোর উদাহরণ টেনে বলেন, মধ্যপ্রাচ্য সংকটের প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান ইতোমধ্যে তেলের দাম ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছে। দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় প্রতিটি দেশই আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে পাল্লা দিয়ে তেলের দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছে। 

তবে বাংলাদেশ সরকার বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির মধ্যেও কৃষি কার্যক্রম ব্যাহত না হওয়া, শিল্প উৎপাদন সচল রাখা এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। 

এই জনবান্ধব চিন্তাভাবনা থেকেই এপ্রিল মাসে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের ঊর্ধ্বগতি এবং বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ থাকায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে। এমন বৈরী পরিস্থিতিতেও বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। 

তিনি জানান, দেশে এখন ১ লাখ ৬৪ হাজার ৬৪৪ মেট্রিক টন ডিজেল মজুত আছে এবং চলতি এপ্রিল মাসের শেষ নাগাদ আরও ১ লাখ ৪৮ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এছাড়া অকটেন মজুত আছে ১ হাজার ৫০০ টন এবং পেট্রল মজুত রয়েছে ১৬ হাজার টন।জ্বালানি তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকার কেবল দাম নিয়ন্ত্রণেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং মজুতদারি ও কৃত্রিম সংকট রোধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। মন্ত্রী জানান, তেলের অবৈধ মজুত এবং অতিরিক্ত দাম নেওয়া বন্ধ করতে দেশজুড়ে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট বা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। 

এ পর্যন্ত মোট ৩৪২টি বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৩১ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং বিপুল পরিমাণ অর্থ জরিমানা করা হয়েছে। বিভিন্ন গোয়েন্দা তথ্য ও অভিযানের মাধ্যমে এ পর্যন্ত প্রায় ৪০ লাখ ৬৭ হাজার লিটার অবৈধ জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে।সরকারের পক্ষ থেকে জ্বালানি তেলের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রতিটি পর্যায়ে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক মনিটরিং টিম কাজ করছে। 

আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে জুম অ্যাপের মাধ্যমে নিয়মিত সভা করে মাঠ পর্যায়ের পরিস্থিতি তদারকি করা হচ্ছে বলে জানান ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, পাচার রোধে সীমান্ত এলাকায় কড়া নজরদারি বজায় রাখা হয়েছে যাতে কোনোভাবেই রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিদেশে পাচার হতে না পারে। দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।