এপ্রিল ৯, ২০২৬, ০৩:২৩ পিএম
জাতীয় সংসদ এলাকায় ‘জঙ্গি এমপি’ বলে প্রকাশ্যে অপবাদ দেওয়ার প্রতিবাদে সংসদে বিশেষ অধিকারের নোটিশ দিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের সংসদ সদস্য সাইদউদ্দিন আহমদ হানজালা। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে বৃহস্পতিবার অধিবেশনের শুরুতেই তিনি বিষয়টি উত্থাপন করেন।
সংসদ সদস্যের এই অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ নোটিশটি অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও তদন্তের জন্য বিশেষ অধিকার সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠিয়ে দিয়েছেন। এর আগে হানজালা পয়েন্ট অব অর্ডারে বিষয়টি তুললে স্পিকার তাকে বিধিমোতাবেক বিশেষ অধিকারের নোটিশ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন।
বিশেষ অধিকারের নোটিশটি উত্থাপনকালে সংসদ সদস্য হানজালা গত ৩০ মার্চের একটি ঘটনার বর্ণনা দেন। তিনি জানান, ওই দিন সংসদ ভবন এলাকায় তাকে প্রকাশ্যে ‘জঙ্গি এমপি’ বলে সম্বোধন করা হয়।
পরবর্তীতে এই ঘটনার ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তিনি সংসদে দাবি করেন, এই ধরণের ভিত্তিহীন ও অবমাননাকর শব্দ ব্যবহারের ফলে তিনি সামাজিকভাবে চরম হেয় প্রতিপন্ন হয়েছেন। একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে তার বিশেষ অধিকার ক্ষুণ্ণ হয়েছে উল্লেখ করে তিনি এর প্রতিকার দাবি করেন।বক্তব্যের এক পর্যায়ে হানজালা ‘জঙ্গি’ শব্দটিকে একটি ‘ফ্যাসিস্ট পরিভাষা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গত ১৭ বছর ধরে একটি বিশেষ গোষ্ঠী এই শব্দটিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে আসছে।
বিশেষ করে দাড়ি ও টুপিওয়ালা ধর্মপ্রাণ মানুষদের নানাভাবে অপবাদ দিয়ে এবং হেয় প্রতিপন্ন করতে এই শব্দটির যথেচ্ছ ব্যবহার হয়েছে। সরকারি ও বিরোধী দল নির্বিশেষে প্রতিটি সংসদ সদস্যের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষায় তিনি স্পিকারের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তার মতে, সংসদ ভবনের মতো পবিত্র স্থানে এ ধরণের আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।এমপি হানজালার বক্তব্যের প্রেক্ষিতে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ সংসদে জানান যে, সদস্যের উত্থাপিত বিশেষ অধিকারের প্রশ্নটি বিধি অনুযায়ী গৃহীত হয়েছে।
বিষয়টি অধিকতর তদন্ত করে একটি প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য সংসদীয় স্থায়ী কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য যে, বিশেষ অধিকার সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হিসেবে স্বয়ং স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ দায়িত্ব পালন করছেন। সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে এ ধরণের নোটিশ এবং পরবর্তী তদন্তের প্রক্রিয়াটি সংসদ সদস্যদের মর্যাদা রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য আশা প্রকাশ করেছেন যে, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরণের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন