রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬,

হরমুজ প্রণালি পার হতে পারল না এমভি বাংলার জয়যাত্রা

জাতীয় ডেস্ক

এপ্রিল ১৮, ২০২৬, ১২:৩৬ পিএম

হরমুজ প্রণালি পার হতে পারল না এমভি বাংলার জয়যাত্রা

এমভি বাংলার জয়যাত্রা

ইরানি নৌবাহিনীর অনুমতি না মেলায় শেষ মুহূর্তে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে পারল না বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) মালিকানাধীন বাণিজ্যিক জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’। প্রণালির একেবারে প্রবেশমুখে পৌঁছালেও প্রয়োজনীয় ক্লিয়ারেন্স না পাওয়ায় জাহাজটি পুনরায় গতিপথ পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়। 

বর্তমানে জাহাজটি তার আগের অবস্থান অর্থাৎ সংযুক্ত আরব আমিরাতের মিনা সাকার বন্দরের জলসীমার বাইরে ফিরে গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।জানা গেছে, শুক্রবার দিবাগত রাত প্রায় দেড়টার দিকে জাহাজটি হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার চেষ্টা করে। 

তবে ইরানি নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে জাহাজটিকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। এর আগে, ইরান সরকার বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করার ঘোষণা দিলে মিনা সাকার বন্দরের বহির্নোঙরে অপেক্ষমাণ সারবাহী এমভি বাংলার জয়যাত্রা শুক্রবার রাত ৯টার দিকে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। 

গভীর রাতে জাহাজটি যখন প্রণালির অত্যন্ত কাছাকাছি পৌঁছায়, তখন চূড়ান্ত অনুমতির আবেদন জানানো হলে ইরানের পক্ষ থেকে তা প্রত্যাখ্যান করা হয়।জাহাজটির ক্যাপ্টেন শফিকুল ইসলাম পরিস্থিতির বর্ণনা দিতে গিয়ে জানান, তাদের আবেদন ইরানের নৌবাহিনী সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে এবং অবিলম্বে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ প্রদান করে। তিনি বলেন, শেষ মুহূর্তে অনুমতি না পাওয়ায় আমরা জাহাজটি নিয়ে পুনরায় মিনা সাকার বন্দরের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করতে বাধ্য হই। এই পরিস্থিতিতে জাহাজের নিরাপত্তার স্বার্থে এবং আন্তর্জাতিক নৌ-প্রটোকল মেনে আগের অবস্থানে ফিরে যাওয়াকেই শ্রেয় মনে করেছে কর্তৃপক্ষ।

বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এমভি বাংলার জয়যাত্রা শেষ পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি পার হতে পারেনি। বর্তমানে এটি আগের অবস্থানেই ফিরে যাচ্ছে। উল্লেখ্য যে, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তা কাজ করছে। যদিও ইরান কিছু বাণিজ্যিক জাহাজকে চলাচলের সুযোগ দেওয়ার কথা বলেছিল, কিন্তু বাংলাদেশি এই জাহাজটির ক্ষেত্রে কেন অনুমতি মেলেনি সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো কারণ জানা যায়নি। বিএসসি কর্তৃপক্ষ বর্তমানে জাহাজটির নিরাপদ অবস্থান নিশ্চিত করতে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।