এপ্রিল ২১, ২০২৬, ০৭:৩০ পিএম
জাতীয় সংসদের প্রতিটি উপজেলায় সংসদ সদস্যদের জন্য আলাদা `পরিদর্শন কক্ষ` বরাদ্দ দেওয়ায় সরকারকে ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি যাতায়াতের জন্য সরকারি গাড়ির দাবি তুলেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি এই দাবি জানান।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে হাসনাত আবদুল্লাহর এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে বেশ হাস্যরস ও প্রাণবন্ত বিতর্কের সৃষ্টি হয়।
হাসনাত আবদুল্লাহ তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, প্রতিটি উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং উপজেলা চেয়ারম্যানদের জন্য সরকারি গাড়ির বরাদ্দ থাকলেও সংসদ সদস্যদের জন্য এমন কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা নেই। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, অনেক সময় নির্বাচনী এলাকায় যাতায়াতের জন্য ব্যক্তিগত বা ভাড়ায় চালিত গাড়ি ব্যবহার করতে হয়।
যা লোকলজ্জার ভয়ে অনেক সময় প্রকাশ করা যায় না জনগণের কাছাকাছি পৌঁছানোর প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও গতিশীল করতে সরকারের কাছে একটি স্থায়ী গাড়ির ব্যবস্থা করার সবিনয় অনুরোধ জানান এই তরুণ সংসদ সদস্য।হাসনাত আবদুল্লাহর এই দাবির প্রেক্ষিতে স্পিকারের অনুমতি নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংসদ সদস্যদের জন্য অতিরিক্ত বিলাসিতা বা সুযোগ-সুবিধা পরিহারের ব্যাপারে শুরু থেকেই কঠোর অনুশাসন দিয়েছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় সরকার কৃচ্ছ্রসাধন নীতি গ্রহণ করেছে। এরই অংশ হিসেবে জ্বালানি তেলের বরাদ্দ ৩০ শতাংশ কমানো হয়েছে এবং সরকারি কর্মকর্তাদের লোন সুবিধাও সীমিত করা হয়েছে। এমনকি বিদ্যমান আইন সংশোধন করে সংসদ সদস্যদের জন্য প্রচলিত শুল্কমুক্ত (ট্যাক্স ফ্রি) গাড়ি আমদানির সুবিধাও বাতিলের পরিকল্পনা করছে সরকার। তবে তিনি শেষে যোগ করেন, সংসদ সদস্যের এই দাবির বিষয়টি সংসদ নেতা ও সংশ্লিষ্টদের সাথে আলোচনা করে দেখা যেতে পারে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন অনমনীয় অবস্থানের পর আলোচনায় অংশ নেন বিরোধী দলের নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি হাসনাত আবদুল্লাহর দাবিকে আমলে নেওয়ায় ট্রেজারি বেঞ্চকে ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কঠোর অবস্থানের সমালোচনা করে কিছুটা রসিকতা করেন। তিনি বলেন, ছোটদের আবদারে সবসময় ‘না’ বলতে নেই। হাসনাত আবদুল্লাহর মতো তরুণ ও উৎসাহী সংসদ সদস্যদের উৎসাহ দিতে তাৎক্ষণিক নেতিবাচক উত্তর না দিয়ে বিষয়টি গুরুত্বসহ বিবেচনার আশ্বাস দিলে তিনি বেশি খুশি হতেন। বিরোধী দলীয় নেতার এমন মন্তব্যে পুরো সংসদ কক্ষে হাসির রোল পড়ে।
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, তিনি আশা করেছিলেন এই দাবির প্রেক্ষিতে কোনো বড় ধরনের ইতিবাচক খবর আসবে এবং সেই খুশিতে তিনি সংসদ সদস্যদের মিষ্টি খাওয়ানোর প্রস্তুতিও নিয়েছিলেন। কিন্তু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে তিনি কিছুটা ‘হোঁচট’ খেয়েছেন বলে মন্তব্য করেন। আলোচনার শেষ পর্যায়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ পরিস্থিতি সামাল দিতে পুনরায় স্মরণ করিয়ে দেন যে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যের শেষ অংশে বিষয়টি বিবেচনার কথা উল্লেখ করেছেন। ফলে আলোচনার এই রেশ শেষ পর্যন্ত এক ইতিবাচক ও কৌতুকপূর্ণ মেজাজে সমাপ্ত হয়।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন