রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

বিশ্ববিদ্যালয়ে দলীয়করণের কোনো সুযোগ নেই: আমির খসরু

জাতীয় ডেস্ক

এপ্রিল ২৪, ২০২৬, ০২:৫০ পিএম

বিশ্ববিদ্যালয়ে দলীয়করণের কোনো সুযোগ নেই: আমির খসরু

আমির খসরু

বিশ্ববিদ্যালয় হবে নিছক জ্ঞানচর্চার জায়গা এবং এখানে দলীয়করণের কোনো সুযোগ নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, আইনের ঊর্ধ্বে গিয়ে কাউকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হবে না এবং ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। 

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট সংলগ্ন এলাকায় ‘সরস্বতী জ্ঞান মন্দির’ উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রী জানান যে সরকার এখন একটি স্থিতিশীল, সংবেদনশীল ও সহনশীল রাজনীতির পথে এগোচ্ছে। যারা দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়, তারা যে দলেরই হোক না কেন, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন। 

তার মতে, সমাজে কিছু উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে যাদের প্রকৃতপক্ষে কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই। আইনের বাইরে যাওয়ার সুযোগ এখন আর কারও নেই এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এ বিষয়ে সজাগ রয়েছে।জ্বালানি ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী স্বচ্ছতার ওপর জোর দেন। তিনি স্বীকার করেন যে দেশে বিদ্যুৎ সংকট নেই—এ কথা বলার কোনো সুযোগ নেই, তবে এটি কেবল বাংলাদেশের একার সমস্যা নয় বরং একটি বৈশ্বিক সংকট। জনগণের কষ্টের কথা বিবেচনা করে জ্বালানির মূল্য অত্যন্ত সীমিত আকারে বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। 

প্রতিবেশী দেশগুলোতে দাম অনেক বেশি বাড়লেও সরকারের দক্ষ ব্যবস্থাপনার কারণে এখনো দেশের কলকারখানা চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে। বিশ্বের অনেক উন্নত দেশে কারফিউর মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হলেও বাংলাদেশে ইনশাআল্লাহ তেমন অবস্থা হবে না বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।দেশের ব্যাংক খাতের বর্তমান নাজুক অবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী। তিনি তথ্য দেন যে বিগত সময়ে দেশ থেকে প্রায় ২২৩০ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে যা দেশের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিয়েছে। 

ব্যাংকগুলো লুটপাট করে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে শেয়ারবাজারও অত্যন্ত দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। ব্যাংকগুলোতে গচ্ছিত অর্থ তুলতে গিয়ে সাধারণ মানুষ সমস্যায় পড়ছেন যা অত্যন্ত দুঃখজনক। এই ধ্বংসস্তূপ থেকে ব্যাংক খাতকে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ কাজ হলেও সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে বলে তিনি জানান।

সামগ্রিকভাবে দেশ পুনর্গঠনের কাজে সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার এবং স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে তারা কঠোর পরিশ্রম করছেন। পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে যা সফল হলে দেশের অর্থনীতি আবার প্রাণ ফিরে পাবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পবিত্রতা রক্ষা এবং জাতীয় অর্থনীতির ভারসাম্য বজায় রাখাই এখন সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ বলে তিনি উল্লেখ করেন। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমিয়ে সেবার মান বাড়াতেও মন্ত্রণালয় কাজ করছে বলে তিনি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেন।