মে ৬, ২০২৬, ০৯:১৬ পিএম
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় মাঠপর্যায় থেকে ধাপে ধাপে সেনাবাহিনী প্রত্যাহারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগামী ৬ জুন থেকে এই প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং জুন মাসের মধ্যেই সারা দেশে মাঠপর্যায়ে মোতায়েন থাকা সব সেনাসদস্যকে ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত কোর কমিটির প্রথম বৈঠকে এই নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি সরকার গঠনের পর এটিই ছিল কোর কমিটির প্রথম বৈঠক।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সেনাবাহিনী প্রত্যাহারের প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে সম্পন্ন করা হবে। প্রথমে প্রত্যন্ত ও দূরবর্তী জেলাগুলো থেকে সেনাসদস্যদের সরিয়ে নেওয়া হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে বিভাগীয় শহর এবং বড় জেলাগুলো থেকেও প্রত্যাহার সম্পন্ন করে জুনের মধ্যেই সবাইকে ব্যারাকে ফিরিয়ে আনা হবে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে একাধিকবার সেনাসদস্যদের ক্লান্তি ও বিশ্রামের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি তুলে ধরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রত্যাহারের অনুরোধ জানানো হয়েছিল। বর্তমানে সারা দেশে প্রায় ১৭ হাজার সেনাসদস্য মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন।সেনাবাহিনী মোতায়েনের পটভূমি পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার আন্দোলন সহিংস রূপ নিলে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার কারফিউ জারি করে সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছিল।
৫ আগস্ট সেই সরকারের পতনের পর পুলিশ বাহিনী ভেঙে পড়লে সেনাবাহিনী মাঠ থেকে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখে। পরবর্তীকালে ১৭ সেপ্টেম্বর অন্তর্বর্তী সরকার সেনাবাহিনীকে বিচারিক ক্ষমতাও প্রদান করে। সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান একাধিকবার জানিয়েছিলেন যে পুলিশ পুরোপুরি পুনর্গঠিত হলে সেনাবাহিনী ব্যারাকে ফিরে যাবে।
কোর কমিটির এই দীর্ঘ বৈঠকে সেনাবাহিনী প্রত্যাহার ছাড়াও দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর গ্রেপ্তার হওয়া সাংবাদিকদের বিষয়ে আলোচনা হয় এবং সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ নেই, তাদের জামিনে বাধা দেওয়া হবে না এবং বিদেশ যাত্রায় হয়রানি করা হবে না।
এছাড়া আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দেওয়া আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসকদের গণ্যমান্য দেওয়া, মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার এবং চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের পরিপ্রেক্ষিতে সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। তবে পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের বিষয়ে আলোচনা হলেও খাকি প্যান্ট ও নেভি ব্লু শার্টই বহাল রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন