মে ৭, ২০২৬, ১০:২১ পিএম
থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (৭ মে) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই আহ্বান জানান। একই সঙ্গে জনস্বাস্থ্য রক্ষায় নাগরিকদের জন্য সরকারিভাবে ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালুর পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি।
ফেসবুক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী থ্যালাসেমিয়াকে একটি জটিল বংশগত রক্তরোগ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, এই রোগ ব্যক্তি, পরিবার এবং সামগ্রিক জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশেষ করে পিতা-মাতা উভয়েই থ্যালাসেমিয়ার জিন-বাহক হলে তাদের সন্তানের এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। এই ঝুঁকি মোকাবিলায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সময়মতো রোগ নির্ণয় ও পরীক্ষা করা জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এবারের থ্যালাসেমিয়া দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— ‘আর আড়াল নয়: রোগ নির্ণয়হীনদের খুঁজে বের করি, অলক্ষ্যে থাকা রোগীদের সহায়তা করি।’ দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া সমিতি প্রতিবছরের মতো এবারও বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বার্তায় এই কর্মসূচির সাফল্য কামনা করেন এবং থ্যালাসেমিয়া রোগীদের প্রতি সামাজিক দায়িত্ববোধ জাগ্রত করার ওপর গুরুত্ব দেন।
বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় দুই কোটি মানুষ থ্যালাসেমিয়ার জিন-বাহক বলে ধারণা করা হয়। প্রধানমন্ত্রী এই পরিসংখ্যানকে উদ্বেগের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা অপরিহার্য। তিনি জানান, জনস্বাস্থ্য রক্ষায় সরকার ‘প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম’ এই নীতি অবলম্বন করেছে, যা থ্যালাসেমিয়া রোগ প্রতিরোধে সবচেয়ে বেশি কার্যকর।
স্বাস্থ্য খাতের আধুনিকায়নের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার একটি জনমুখী ও আধুনিক স্বাস্থ্য-ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে। রোগীর স্বাস্থ্যবিষয়ক তথ্য নিয়ে সরকার নাগরিকদের জন্য ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালুর পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে রয়েছে। এই কার্ড চালু হলে নাগরিকরা নিজেদের স্বাস্থ্য সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য জানতে পারবেন। একই সঙ্গে একজন রোগী গ্রাম কিংবা শহর যেখানেই চিকিৎসা নিন না কেন, চিকিৎসকরা ই-হেলথ কার্ডের মাধ্যমে রোগীর প্রয়োজনীয় তথ্য দ্রুত জানতে সক্ষম হবেন।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, দুইজন থ্যালাসেমিয়া রোগীর মধ্যে দাম্পত্য সম্পর্ক না হলে এই রোগের বিস্তার রোধ করা সম্ভব। তাই বিবাহের আগে থ্যালাসেমিয়ার জিন-বাহকদের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করতে পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। সরকারের পাশাপাশি সকল পেশাজীবী, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং গণমাধ্যমকেও এই জনসচেতনতা তৈরিতে এগিয়ে আসার অনুরোধ জানানো হয়েছে ওই পোস্টে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন