সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ফার্স্ট লেডির সংজ্ঞা, মাপকাঠি বদলে দিয়েছেন ডা. জুবাইদা রহমান

জাতীয় ডেস্ক

মে ৮, ২০২৬, ১০:১৯ পিএম

ফার্স্ট লেডির সংজ্ঞা, মাপকাঠি বদলে দিয়েছেন ডা. জুবাইদা রহমান

ডা. জুবাইদা রহমান।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ফার্স্ট লেডি শব্দটির সঙ্গে সাধারণত একজন গৃহবধূ বা রাষ্ট্রপতির ছায়াসঙ্গীর প্রতিচ্ছবিই মিশে আছে। তবে সেই প্রচলিত ধারা ও মাপকাঠি পাল্টে দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি কেবল প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী হিসেবে নয়, বরং নিজের মেধা, পারিবারিক ঐতিহ্য এবং আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতায় এক স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করেছেন।

রাষ্ট্রীয় প্রটোকল অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির স্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে ফার্স্ট লেডি হলেও বর্তমানে ডা. জুবাইদা রহমানের কর্মকাণ্ডে সেই সংজ্ঞার নতুন রূপ দেখা যাচ্ছে। 

বিশেষ করে গত মার্চ মাসে হোয়াইট হাউসে মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের আমন্ত্রণে ‘ফাস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার গ্লোবাল কোয়ালিশন সামিটে’ যোগ দেওয়ার পর কূটনৈতিক মহলে তার গুরুত্ব ভিন্নভাবে আলোচিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো সেখানে তাকে বাংলাদেশের ফার্স্ট লেডির মতোই মর্যাদা দিয়েছে।

জুবাইদা রহমানের এই আত্মবিশ্বাসের মূলে রয়েছে তার অত্যন্ত সমৃদ্ধ পারিবারিক ইতিহাস। তিনি ১৯৭২ সালের ১৮ জুন সিলেটের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা প্রয়াত রিয়ার এডমিরাল মাহবুব আলী খান ছিলেন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সাবেক প্রধান এবং সাবেক সরকারের মন্ত্রী। তার পূর্বপুরুষদের মধ্যে রয়েছেন ভারতবর্ষের প্রথম মুসলিম ব্যারিস্টার আহমেদ আলী খান এবং প্রথম মুসলিম বিচারপতি সৈয়দ আমির আলী। সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এম এ জি ওসমানীও তার ঘনিষ্ঠ আত্মীয়।

জুবাইদা রহমানের মা সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানু একুশে পদকপ্রাপ্ত সমাজসেবী এবং সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সেবামূলক প্রতিষ্ঠান ‘সুরভি’-র প্রতিষ্ঠাতা। প্রায় ৪৭ বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটি শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ব্যক্তিত্ব আইরিন খান ডা. জুবাইদা রহমানের আপন চাচাতো বোন। এমন বর্ণাঢ্য পারিবারিক ইতিহাস তার ব্যক্তিত্বকে আলাদা উচ্চতা দিয়েছে।

পেশাগত জীবনে ডা. জুবাইদা রহমান একজন মেধাবী চিকিৎসক। ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস করার পর তিনি লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজ থেকে মেডিসিনে এমডি ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৯৫ সালে বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে যোগদানের মাধ্যমে তিনি কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। এই পেশাদারিত্বই তাকে স্বামীর পরিচয়ের বাইরে এক স্বতন্ত্র পরিচিতি এনে দিয়েছে।

রাজনীতির মাঠেও তার পদচারণা ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। গত ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে হাতিরঝিলে পেশাজীবীদের সম্মেলনে তার দেওয়া বক্তব্য ব্যাপক নজর কাড়ে। সেখানে তিনি রাজনীতির গতিপ্রকৃতি ও জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার কথা অত্যন্ত পরিণত বাচনভঙ্গিতে তুলে ধরেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, তিনি সরাসরি ক্ষমতার রাজনীতিতে না গিয়েও শিক্ষা, জনস্বাস্থ্য এবং শিশু উন্নয়নের মতো ‘সফট পাওয়ার’ ব্যবহার করে নিজের অবস্থান শক্তিশালী করছেন।

হোয়াইট হাউসের সম্মেলনে ডা. জুবাইদা রহমান উন্নয়নশীল দেশের শিশুদের অধিকার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাবনা নিয়ে যে নীতি-নির্ধারণী সংলাপ করেছেন, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে বিরল। তিনি সেখানে বলেছিলেন, প্রতিটি জাতির ভবিষ্যৎ শিশুদের জীবনের গল্পে লেখা থাকে। তার এই বিশ্বজনীন দৃষ্টিভঙ্গি তাকে গতানুগতিক ফার্স্ট লেডিদের চেয়ে আলাদা করেছে।

মেধা, আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক এবং নেতৃত্বের গুণাবলি ডা. জুবাইদা রহমানকে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম একজন ‘প্রফেশনাল ফার্স্ট লেডি’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। শাশুড়ি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আমলে যেমন তারেক রহমান নিজেকে তৈরি করেছিলেন, বর্তমান সময়ে ডা. জুবাইদা রহমানও সমকালীন বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিং ও প্রতিনিধিত্বের এক যোগ্য উদাহরণ হয়ে উঠেছেন।