মে ১০, ২০২৬, ১০:৪৪ এএম
আর কোনো ফ্যাসিবাদ যেন পুলিশকে দেশ ও জনগণের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে না পারে, পুলিশ সদস্যদের সেই শপথ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (১০ মে) সকালে রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬-এর উদ্বোধনকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতিচারণ করে বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে এই রাজারবাগে ঘুমন্ত পুলিশ সদস্যদের ওপর হানাদার বাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’ চালিয়েছিল। তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে শহিদ সব পুলিশ সদস্যের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
তারেক রহমান বলেন, শুধুমাত্র স্মরণের মধ্য দিয়েই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। শহিদ পুলিশ সদস্যরা যে স্বাধীনতার জন্য জীবন দিয়েছিলেন, তা রক্ষা করা সবার পবিত্র দায়িত্ব। স্বাধীনতার প্রথম প্রহরে পুলিশের রক্তে রঞ্জিত এই মাটিতে দাঁড়িয়ে তিনি আবারও নতুন শপথে অঙ্গীকারবদ্ধ হওয়ার জন্য পুলিশ বাহিনীকে উৎসাহিত করেন।
প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামের মেজর জিয়ার ‘উই রিভোল্ট’ এবং রাজারবাগে পুলিশের মরণপণ প্রতিরোধের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধকালীন নেতৃত্ব এবং কৌশল নিয়ে গবেষণার অনেক অবকাশ রয়েছে। বিশেষ করে কেন উত্তাল সময়ে সব পুলিশকে রাজারবাগে জড়ো করে রাখা হয়েছিল, তা গবেষকদের জন্য একটি বিষয় হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ের পর গণতন্ত্রকামী মানুষ এখন শান্তি ও নিরাপত্তা চায়। তিনি প্রত্যাশা করেন, পুলিশ তাদের সাধ্য ও সামর্থ্য দিয়ে জনগণের জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুলিশের দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমেও বাংলাদেশ পুলিশের ভূমিকা আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত। বিশেষ করে নারী পুলিশ সদস্যদের সাহসিকতা উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্য শেষে পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬-এর সার্বিক সাফল্য কামনা করেন। এর আগে তিনি প্যারেড গ্রাউন্ডে বর্ণিল কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন