জুন ১৫, ২০২৬, ০৩:০৯ পিএম
দীর্ঘ ১১ বছর পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বা নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে। আগামী ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে এই নতুন কাঠামো কার্যকর করার ইঙ্গিত দিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে।নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের জন্য আসন্ন বাজেটে প্রায় ৯০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
বাজেটের প্রস্তাব অনুযায়ী, বেতন ও ভাতা বাবদ মোট ৮৯ হাজার ৩৮০ কোটি টাকার সংস্থান করা হয়েছে। এর মধ্যে ক্যাডার কর্মকর্তাদের বেতনের জন্য ১৩ হাজার ৮৭৪ কোটি টাকা এবং কর্মচারীদের বেতনের জন্য ৩০ হাজার ৬৭১ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন ভাতার জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৪৪ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের তুলনায় এই খাতে বরাদ্দের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে।
প্রস্তাবিত কাঠামোয় মূল বেতনে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হয়েছে। এর ফলে প্রথম গ্রেডের বেতন ১ লাখ ১৭ হাজার টাকায় উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য নতুন এই কাঠামোয় বিশেষ চমক থাকতে পারে। মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় নিম্ন ও মধ্যম স্তরের কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির হার তুলনামূলক বেশি রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
বেতনের পাশাপাশি ভাতা বৃদ্ধির বিষয়েও সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব রয়েছে। বৈশাখী ভাতা মূল বেতনের ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ এবং সন্তানদের শিক্ষা ভাতা ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের টিফিন ভাতা ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার টাকা করারও প্রস্তাব রয়েছে। পেনশনভোগীদের জন্যও বিশেষ সুবিধা যুক্ত হচ্ছে, যেখানে মাসিক পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সুপারিশ এসেছে।
চূড়ান্ত বেতন কাঠামো, বৃদ্ধির হার এবং বাস্তবায়নের সময়সূচি সম্পর্কে নিশ্চিত হতে সরকারি গেজেট প্রকাশের অপেক্ষা করতে হবে। পুরো কাঠামোটি একবারে বাস্তবায়ন করতে অতিরিক্ত ৪৩ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হতো, তবে মহার্ঘ ভাতা সমন্বয়ের কারণে সরকারের ওপর চাপের পরিমাণ ৩৮ হাজার কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন